৯, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

এক নিঃসঙ্গ বালকের জীবন সংগ্রাম

পরিবারের কেউ তার পাশে নেই। অনেকে দত্তক নিতে চাইলেও সে প্রত্যাখ্যান করেছে। তার লক্ষ্য একাই জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে সে ভিয়েতনামের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্পূর্ণ একাকী জীবনযাপন করছে দশ বছরের এক বালক। পরিবারের কেউ তার পাশে নেই। অনেকে দত্তক নিতে চাইলেও প্রত্যাখ্যান করেছে সে । তার লক্ষ্য একাই জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে সে। তার এই উদ্যোগ সমগ্র বিশ্বের নজর কেড়েছে। যেখানে এই বয়সের অন্য পাঁচটা শিশু স্কুলে যাওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে বা হইহই করে ঘুরে বেড়ায় সেখানে ড্যাং ভ্যান খুয়েন নামের ওই বালক ক্ষেতে দিনমজুরের কাজ করছে, বাড়ির আঙিনায় সবজির চারা রোপন করছে, খাবারের খোঁজে বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জীবনের চরম বাস্তবতাই খুয়েনকে এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। খুব ছোট বয়সে মা মারা যায়। বড় হতে থাকে দাদির কাছে। বাবা দূরে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নেয়। সেখান থেকে তাদের দু’জনের জন্য টাকা পাঠাত। কিছুদিন পর কর্মস্থলে এক মারাত্মক দুর্ঘটনায় মারা যান খুয়েনের বাবা । নিঃস্ব দাদি বাধ্য হয়ে অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায়। ছোট্ট খুয়েন একা পড়ে থাকে বাড়িতে। তিনকূলে কেউ নেই তার। খুয়েনের বাবার মৃত্যুসংবাদ শুনে তার শিক্ষক কিছু টাকা জোগাড় করে বাবার লাশ বাড়িতে এনে দাফনের ব্যবস্থা করেন। তারপর তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে শিশুটির বিষয়ে অবহিত করেন। প্রশাসন খুয়েনের দাদা ও নানার বাড়ির লোকজনের সাথে কথা বলে। তারা কেউই খুয়েনের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়নি। তারপর অনেকেই তাকে দত্তক নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসে কিন্তু খুয়েনের সোজা সাপ্টা উত্তর, সে নিজেই নিজের যত্ন নিতে পারবে। সে এখন তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে চাল চেয়ে আনে। তবে সবজি সে নিজেই চাষ করে। অবশ্য, খুয়েনের শিক্ষক ও ভিয়েতনামিজ মিডিয়ার বদৌলতে সাড়া পড়ে যাওয়ায় অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। খুয়েন বলে, নিস্তব্ধ রাতে একাকী একটা ঘরে ঘুমানো মোটেও আনন্দদায়ক নয়। তবে অন্য পরিবারে দত্তক হয়েও যেতে চায় না সে।