৭, ডিসেম্বর, ২০১৯, শনিবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

আলুর দাম আরও বাড়ুক: কৃষিমন্ত্রী

আপডেট: December 5, 2019

আলুর দাম আরও বাড়ুক: কৃষিমন্ত্রী

দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি আলু উৎপাদনের তথ্য জানিয়ে এই খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

সারের দাম কমানো নিয়ে বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে যখন মানুষ ধুঁকছে তখন আলু, চালসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। শীতকালীন সবজিও অন্যান্য বছরের তুলনায় এখনও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “কাঁচাবাজার যেটা পচনশীল, চাল ছাড়া বেশিরভাগই পচনশীল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা এই র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে কোন দিনই বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। এটা মার্কেট ফোর্স এবং বাজারের যে শক্তি সেটাই নিয়ন্ত্রণ করবে। শুধু মনিটরিং করা সব দেশেই কমিটি আছে প্রতিষ্ঠান আছে তেমনভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, চাহিদা ও সরবরাহের উপর নির্ভর করে।”

বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইল তিনি বলেন, “এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া খুব কঠিন। সব জিনিসের দাম বেড়েছে এটা ঠিক না। ভোজ্যতেলের দাম বাড়েনি, সব কিছুই সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে| পেঁয়াজটাই একটা অসহনশীল পর্যায়ে কোন ক্রমেই এ দাম গ্রহণযোগ্য নয়।”

বাজারে আলুর দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আলুর দাম বেড়েছে, আমি চাই আলুর দাম আরও বাড়ুক। এক কোটি ১০ লাখ টন আলু হয়েছে আমাদের, দরকার ৭০ থেকে ৮০ লাখ টন। দাম বেশি না হলে সামনে বছর আলু চাষ হবে না।”
প্রায় সারা বছরই আলুর দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা বা তার নিচে থাকলেও এখন বাজারে নতুন আলু ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পুরানো আলুর দাম বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। এমন সময়ে আলুর দাম বেড়েছে যখন কৃষক নতুন আলু তুলছে, পুরানো আলু ব্যবসায়ীদের হাতে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মিরপুর বাজারের আড়ত সততা বাণিজ্যালয়ের মালিক আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, “বড় কৃষক ও ব্যাপারীরা সারা বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে কোল্ড স্টোরেজে আলু জমা রাখেন। তবে অধিকাংশ ছোট কৃষকই ক্ষেত থেকে আলু তোলার পর তা বিক্রি করে দেন। সেগুলো কিনে নেন ব্যাপারীরা।”

এই ব্যবসায়ী বলেন, “গত ১৫ দিন ধরে আলুর দাম একটু বাড়লেও তিন দিন ধরে দাম কমে এসেছে। পাইকারিতে আলুর দাম প্রতিকেজি ২৪ টাকা থেকে কমে ২২ টাকায় এসেছে। নতুন আলু বাজারে এসে যাওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে।”

বাজার মূলত চাহিদা ও সরবরাহের উপর নির্ভর করে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা র‌্যাব-পুলিশ দিয়ে কোনো দিনই বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী।

বাজারে যে দামে খাদ্যপণ্য কিনতে হয়, তার ধারেকাছের দাম কৃষক পাচ্ছেন না কেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “সারের বেনিফিট পুরো কৃষকরা পাবে। বাজারে শাক সবজির যে দাম বেশি এগুলোর অনেকগুলোর কারণ রয়েছে। পরিবহন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেশি, পচনশীল, ফার্মগেট প্রাইজ ও কনজ্যুমার প্রাইজ পার্থক্য হবে, কিন্তু এই মুহূর্তে একটু বেশি।”

চালের বাজার নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “মোটা চাল ওএমএসে বিক্রি হয় না, ডিলাররা নিচ্ছে না, মোটা চালের দাম এক টাকাও বাড়েনি। ভিজিএফ’র চাল দেওয়া হলেও পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে, পরে চিকন চাল কিনছে। সরু চাল যারা অ্যাফোর্ট করতে পারে বেশি দাম হলে অসুবিধা কী?”

২৫০ টাকা কেজি দরে বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনছেন কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী রাজ্জাক বলেন, “এখন কম কেনা হয়। মূল পেঁয়াজ এখনও ওঠেনি, বাল্ক থেকে যা হচ্ছে তা এখন পাওয়া যাচ্ছে। বীজ থেকে লাগানো পেঁয়াজ, তা উঠতে সময় লাগবে। আমাদের যে উৎপাদন ক্ষমতা আছে তাতে সংরক্ষণ করতে পারলে ঘাটতি হওয়ার কথা নয়।”