২১, নভেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

সভ্যতার যেখানে শেষ, ভারতের সেখানে শুরু

আপডেট: April 12, 2019

সভ্যতার যেখানে শেষ, ভারতের সেখানে শুরু

আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে ‘নিদাহাস ট্রফি’র কথা।চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ।যদিও শেষ হাসি হেসেছে টাইগাররা ।কিন্তু কথা তো থেকে যায়।

গত বছরের ১৬ মার্চের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ের ম্যাচটিতে কেমন আচরণ করেছে বাংলাদেশের সাথে? জয়ের জন্য প্রয়োজন ৬ বলে ১২ রান।সবার বুকে ধুরুধুরু।বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ক্রিকেটপ্রেমীরা।আর বাংলাদেশে যারা আছেন, তারা তো টিভিতে চোখ রেখেছেন।অনেকে প্রার্থনায় বসে গেছেন।

২০ ওভারের প্রথম বলে উদানার বাউন্সার উড়ে গেল মোস্তাফিজের মাথার উপর দিয়ে। দ্বিতীয় বলও একই লাইন দিয়ে আগের থেকে একটু বেশি উচ্চতায় জমা পড়ল উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। রানের জন্য মোস্তাফিজ দৌড় দিলে রান আউট হয়ে যান। কিন্তু আম্পায়ারের কাছ থেকে এলো না কোন ওয়াইড বা নো বলের সংকেত। আর কাহিনীর শুরু এখান থেকেই।

লঙ্কান পেসার ইসুরু উদানার দেয়া বাউন্সারকে আম্পায়ার দিলেন লিগ্যাল ডেলিভারি। টানা দুই বাউন্সারের পরও টি-টোয়েন্ট’র আইন অনুযায়ী ‘নো’ বল না দেওয়ার সিদ্ধান্তটা মানতে পারেননি সাকিব। চতুর্থ আম্পায়ারের কাছে সঠিক সিদ্ধান্তের আবেদন করেও যখন সাড়া পেলেন না, তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় তখন মাঠের দুই ব্যাটসম্যানকে বেরিয়ে আসতে বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

মাঠে মাহমুদউল্লাহও তখন ফিল্ড আম্পায়ারকে বুঝানোর চেষ্টা করছেন। কেউ কোন কথা কানে নিচ্ছেন না, কিন্তু ভিডিও ফুটেজ বলছে সেটা আসলেই নো বল ছিল। সংগত কারনেই মাঠ ছাড়তে বললেন সাকিব।

যদিও শেষ পর্যন্ত আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই মাহমুদউল্লাহ’র বীরোচিত ইনিংসে ভর করে ১ বল বাকি থাকতেই ২ উইকেটে ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। কিন্তু সবখানে সমালোচিত হচ্ছে সাকিবের দলকে মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার নির্দেশ।

মজার বিষয় হচ্ছে, অধিনায়ক হয়ে যিনি সতীর্থকে ধাক্কা দিয়ে মাঠ থেকে বেরোতে তাগাদা দিয়েছিলেন, সেই গাভাস্কারই সাকিবের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থার দাবি তুলেছিলেন!

ম্যাচ পরিবর্তী আলোচনায় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে গাভাস্কার বলেছিলেন, ‘যা হয়েছে, ভালো হয়নি। আইসিসিকে এ বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে। সাকিব মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে অমান্য করেছে। তার সঠিক ব্যবস্থা হওয়া উচিত। তাদের বোর্ডেরও উচিত এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা।’

যে সাকিবের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি করেছেন, তিনি দুধে ধোয়া তুলশি পাতা নন।ফিরে যেতে হবে ইতিহাসের পাতায়। ১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিনি আরো ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। মেলবোর্নের সেই টেস্টে ডেনিস লিলির বলে এলবির শিকার হন গাভাস্কার। সঙ্গে সঙ্গেই মাথা নেড়ে নিজের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি। একপর্যায়ে দেখা যায়, অপর ব্যাটসম্যান চেতন চৌহানকে তিনি প্যাভিলিয়নের পথ ধরার ইঙ্গিত করছেন। চৌহান কিছুটা দোনোমনো ভাব দেখালে গাভাস্কার তাকে রীতিমতো ঠেলে সামনে এগিয়ে নেন। ওই সময় ভারতীয় দলের টিম ম্যানেজার ছিলেন শহিদ আলি খান দুররানি। তিনিই বাউন্ডারি লাইনে দাঁড়িয়ে চৌহানকে থামান। গাভাস্কার ড্রেসিংরুমে ফিরে যান গজরাতে গজরাতে।

লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাকিব অনুতপ্ত হয়েছেন নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রন না করতে পারার জন্য। তিনি বলেন, “আসলে আমার আবেগ আরো সংবরণ করা উচিত ছিল, কারণ আমি একটি দলের নেতা তাই আমাকে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে।”

ভুল শিকার করার পরেও সাকিবকে গুনতে হয়েছে জরিমানা। পেয়েছেন একটি ডিমেরিট পয়েন্টও।

এবার আসি মূল কথায়।সেদিন সাকিব প্রতিবাদ করেছিল কিন্তু মাঠে নামেনি।সেটি ছিলো আন্তর্জাতিক ম্যাচ! অথচ অভিজ্ঞ ধোনি বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) মাঠে প্রবেশ করলো একটি নো বলের জন্য!তাও আবার ফ্রাঞ্চইজি ভিত্তিক ম্যাচে!

ধোনির এমন আচরণ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কথা বলছেন না সেই মোড়ল গাভাস্কার।ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেননি ধোনি! এই দুইয়ের বিচার আপনি কিভাবে করবেন?

১৯৮১ সালের সেই ঘটনার জন্য ৩৩ বছর পর ২০১৪ সালে এসে অনুতাপ প্রকাশ করেন ভারতীয় এ কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।এখন প্রশ্ন ধোনি কবে বলবেন যে, তিনি ভুল করেছেন? মোট কথা সভ্যতার যেখানে শেষ, ভারতের সেখানে শুরু।