৭, ডিসেম্বর, ২০১৯, শনিবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

গণরুমে গিয়ে ‘ছাত্রলীগের’ বাধার মুখে ভিপি নুরুল

আপডেট: December 4, 2019

গণরুমে গিয়ে ‘ছাত্রলীগের’ বাধার মুখে ভিপি নুরুল

গণরুমে থাকা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে ছাত্রলীগের বাধার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক। আর ছাত্রলীগের দাবি, সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু করে থাকলে সে দায় ছাত্রলীগের নয়।

নুরুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা সহযোগিতা না চেয়ে হল পরিদর্শনে যাওয়ায় এর দায়ভার নুরুলকেই নিতে হবে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেছেন, নুরুলের এই আচরণ ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’৷

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে গিয়েছিলেন।

গেলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা নুরুলকে বাধা দেন। ওই হলের একটি গণরুমে ঢুকতে গেলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা কক্ষটির দরজা আটকে দিয়ে নুরুলকে ধাক্কা দেন এবং গালিগালাজ করেন।

ভিপি নুরুল হক অভিযোগ করে বলেন, আজ দুপুরে বিজয় একাত্তর হলের একটি গণরুমে শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নিতে গেলে সেখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে হেনস্তা করেন। গণরুমটিতে ঢুকতে গেলে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী এসে কক্ষটির দরজা আটকে দেন। এরপর আরেকটি কক্ষে ঢুকলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা এসে তাঁকে লক্ষ্য করে অশোভন ও অপমানজনক কথাবার্তা বলতে থাকেন। তাঁদের একজন একপর্যায়ে তাঁকে (নুরুল) ধাক্কা দেন এবং হাত ধরে টানাটানি করেন। এ সময় গণরুমকে ‘ছাত্রলীগের রুম’ বলে দাবি করে তাঁরা জানতে চান, তিনি (নুরুল) কেন গণরুমে এসেছেন।

গণরুম পরিদর্শনের সময় ভিপি নুরুলের সঙ্গে একই প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন, নুরুলের সংগঠন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান ও ফারুক হাসানসহ কয়েকজন ছিলেন। বিজয় একাত্তর হলে তাঁদেরও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন নুরুল। ঘটনাটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষকে জানিয়েছেন নুরুল। এ বিষয়ে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন বলেও জানান তিনি।

ভিপি নুরুল হক আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে প্রায়ই অভিযোগ করা হয় যে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করি না, তাঁদের খোঁজ-খবর নিই না। কিন্তু আসলে ছাত্রলীগ চায় না, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের সংযোগ তৈরি হোক। এই ঘটনার মাধ্যমে তা আবারও প্রমাণিত হলো।’

তবে ডাকসুর এজিএস ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের দাবি, ছাত্রলীগ নয় বরং সাধারণ শিক্ষার্থীরাই নুরুলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গণরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা থাকেন। নুরুল হক গণরুম পরিদর্শনে গেছেন। সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু করে থাকলে তার দায় ছাত্রলীগের নয়৷ নির্বাচিত হয়েও দায়বদ্ধতার প্রমাণ রাখতে না পারা ও রক্ষণশীলতার চাষাবাদ করায় তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের শিকার হলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু বলার নেই।’

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘ভিপি নুরুল হক বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক ছাত্র নন। সেখানে গণরুম পরিদর্শনে যাওয়ার আগে তিনি প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেননি বা সহযোগিতাও চাননি। এটি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ। শুধু এই ঘটনা নয়, এর চেয়ে বেশি কিছুও যদি ঘটত, তার দায়ভার নুরুলেরই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কাম্য নয়। আমরা তাঁকে আরও দায়িত্বশীল ও বিবেচক হওয়ার আহ্বান জানাই।’

এ বিষয়ে ভিপি নুরুলের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে এক হল থেকে আরেক হলে গেলে অনুমতি নেওয়ার কোনো নিয়ম বা আইন নেই।