৬, ডিসেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ৮ রবিউস সানি ১৪৪১

বাউৎ উৎসবে মেতেছে মৎস্য শিকারিরা

আপডেট: December 4, 2019

বাউৎ উৎসবে মেতেছে মৎস্য শিকারিরা

ঐতিহ্যবাহী বাউৎ উৎসবে মেতে উঠেছে পাবনার চলনবিল পাড়ের শৌখিন মৎস্য শিকারিরা। মঙ্গলবার চলনবিল অধ্যুষিত বিল রুহুলে এই উৎসবে শত শত মৎস শিকারি মিলিত হয়ে মৎস্য শিকার করেন।

পাবনার ভাঙ্গুড়া-চাটমোহর উপজেলার কিছু অংশ জুড়ে কয়েক শত একর অবস্থিত বিল রুহুল। বর্ষাকালে এই এলাকা পানিতে ডুবে থাকে। পানি মেনে গেলেও নিচু জলাভূমিতে প্রচুর মাছ থেকে যায়। তাই প্রতি বছর এই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শৌখিন মৎস্য শিকারিরা একত্রিত হয়ে বাউৎ উৎসবে মেতে উঠেন। স্থানীয় ভাষায় একে বলা হয় বাউৎ উৎসব।

বাউৎ উৎসবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শৌখিন মৎস্য শিকারিরা একত্রিত হয়ে সারিবদ্ধভাবে বিলে পলো, ঠেলাজাল, বেরজাল দিয়ে মাছ শিকার করে। এভাবে তারা বিলের মধ্যে আনন্দের সঙ্গে মাছ শিকার করে থাকে। এ সময় দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ শোল, বোয়াল, গজার, রুই, কাতলা,চিতল, পুঁটি, খৈলসা, শিং টেংরা, পাবদা  ধরা পড়ে। তবে দুপুরের দিকে মাছ ধরার পর বাউৎরা তাদের গন্তব্য স্থানে ফিরে যায়।

ঈশ্বরদী থেকে আগত পঞ্চান্ন বছর বয়সী ময়েজ উদ্দীন জানান, পলো দিয়ে মাছ ধরা তার দীর্ঘদিনের শখ। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতি বছরের এইদিনে বিল রুহুলে চলে আসেন। তবে আগের তুলনায় দেশীয় প্রজাতির মাছ কমে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নাটোর থেকে আগত আবু বক্কার জানান, প্রতি বছর এই দিনে বিল রুহুলে মাছ শিকার করতে আসি। মাছ পাই আর না পাই এটি তার অন্যতম শখ।

মাছ না পেয়ে হতাশ বড়াইগ্রামের আফসার আলী জানান, এখানকার লোকজন আগের রাতে জাল দিয়ে মাছ মেরে নিয়েছে। তাই এখন আর তেমন মাছ নেই এই বিলে।

ইউএনও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান জানান, বিল রুহুলে প্রতি বছর বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শৌখিন মৎস্য শিকারীদের মাছ ধরা একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে।