১৩, ডিসেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

সৌদি থেকে ফেরার জন্য আবারো আকুতি

আপডেট: December 4, 2019

সৌদি থেকে ফেরার জন্য আবারো আকুতি

এবার সৌদি আরব থেকে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে নিজের ওপর নির্যাতনের কথা জানিয়ে দেশে ফেরার আঁকুতি জানিয়েছেন সেলিনা আক্তার নামের (বিএক্স-০৭১৩৯১৭) এক নারী । ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি মেসার্স মিলেনিয়াম ওভারসীজ লিমিটেডের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান। তার স্বামী এবং স্বজনদের কাছে ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে তিনি তার ওপর নিয়োগকর্তা এবং তার স্বজনদের শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। কান্না করতে করতে এক কন্যা সন্তানের জননী সেলিনা বলেন, ‘আমাকে বাঁচান। আমি আমার স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে চাই।’

একাধিক ভিডিওতে তিনি তার স্বজনদের কাছে দেশে ফিরিয়ে আনার আঁকুতি জানিয়ে বলেন, বিনা কারণেই আমাকে প্রায় প্রতিদিনই মারধর করে নিয়োগকর্তা ও তার স্বজনরা। গরম ইস্ত্রি দিয়ে ছেক দিতে আসে, চুল কেটে দিতে আসে। আমার শরীর জুড়ে মারের (নির্যাতন) দাগ। পিঠে মারে, বুকে-মাথায় মারে। এসব জায়গা তো আর দেখানো যায়? কেন আপনারা বুঝেন না। আমি বার বার বলছি, আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান। কেন নিচ্ছেন না?

সেলিনা আক্তারের সাথে হোয়াট’স অ্যাপ ও ইমুতে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।তিনি বলেন, প্রথম ২-৩ মাস ভালই ছিলাম। তারপর থেকে বেতন নিয়ে সমস্যা করে আসছে। বেতনের কথাও বলতে পারি না। কথা কথায় মারধর করে। এখন আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আর পারছি না। প্লিজ আমাকে বাঁচান। আমার স্বামী সন্তানের কাছে ফিরিয়ে দিন। আমার মতো কেউ যেন সৌদিতে না আসে।

এদিকে, সেলিনা আক্তারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে আবেদন করেছেন তার স্বামী মো. উজ্জল।

এসব আবেদনে জানা যায়, তাদের বাড়ি রাজধানী ঢাকার কদমতলী থানার পূর্ব জুরাইনে। মিলেনিয়াম ওভারসীজ লিমিটেড নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সৌদি আরবে যান সেলিনা।

আবেদনে সেলিনার স্বামী উজ্জল উল্লেখ করেন, প্রথম দিকে ঠিকমতোই চাকরি করছিল সেলিনা। কিন্ত গত ৪ মাস যাবত নিয়োগকর্তা ও তার আত্মীয়রা আমার স্ত্রীকে কু প্রস্তাব দিয়ে যৌন হয়রানিসহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছে। বেতনও দিচ্ছে না। বেতন চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিকে জানালে তারা সৌদি আরবে দুর্দশাগ্রস্ত সেলিনা আক্তারকে দেশে ফেরত আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে।

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে করা আবেদনে উজ্জল আরো উল্লেখ করেন, সৌদিস্থ নিয়োগকর্তা বা তার পুরুষ আত্মীয়-স্বজন আমার স্ত্রী সেলিনা আক্তারকে নির্যাতন করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে আইনের হাত থেকে রেহাই পাবার চেষ্টা করে সফল হবে; কিন্তু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এমতাবস্থায় বাংলাদেশী নাগরিকের জীবন রক্ষার মৌলিক অধিকার সুরক্ষা করতঃ আমার স্ত্রীকে সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় নিয়োগকর্তার হাত থেকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে তিনি অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ প্রতিষ্ঠান বিএমইটি ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি পঞ্চগড়ের সুমী আক্তার এবং হবিগঞ্জের হোসনা আক্তার নির্যাতনের বর্ণনার ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপর তাকে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে উদ্ধার করে দেশে ফেরত এনেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।