১৩, ডিসেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন, দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

আপডেট: December 3, 2019

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন, দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

নরসিংদীর মনোহরদীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের জানাজায় বিলম্ব উপস্থিতির কারণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধার পরিবার ও দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে জেলা পুলিশ। বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দানে বিলম্ব হবার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুজন হলেন- এসআই মাসুদ ও এএসআই বজলু। দায়িত্ব অবহেলার দায়ে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হাসান দুই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, থানা থেকে রওনা হবার পর গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৩০ মিনিট দেরি হয়ে যায়। জানাজা শেষে পুলিশ মরহুমের কবরে গার্ড অব অনার প্রদান করেছে। জানাজার পূর্বে পুলিশ উপস্থিত না থাকায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা প্রদানে জেলা পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এদিকে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, মনোহরদী উপজেলার মধ্য চরমান্দালিয়া গ্রামে আবুল হাশেম (৭৫) নামের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়া দাফন করা হয়েছে। থানায় বারবার জানানোর পরও কেউ আসেনি আনুষ্ঠানিকতা সারার জন্য। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

চরমান্দালিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল্লাহ মিয়া এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত রবিবার বিকাল সাড়ে তিনটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম মারা যান। এ খবর ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল্লাহ মনোহরদী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান তারাকে জানান। পরে মতিউর রহমান তারা বিষয়টি মনোহরদী থানায় অবহিত করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার সকাল ১০টায় মরহুমের জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়। পরে থানার পরামর্শে জানাজার সময় এক ঘণ্টা পিছিয়ে বেলা ১১টায় নির্ধারণ করা হয়। জানাজার সময় জানিয়ে মাইক প্রচারণা চালানো হয় এলাকায়।

সকাল ১০টায় মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নেওয়া জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থানে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি জানাজায় উপস্থিত হন। এ সময় নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় মর্যাদার অংশ হিসেবে পুলিশ কর্তৃক বিউগল বাজানো, রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়নি। দুজন পুলিশ সদস্য জানাজার স্থলে হাজির হলেও তারা নীরব দর্শকের মতো দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, তাদের লোকজন আসছেন।

জানাজার নির্ধারিত সময়ের পর আরও আধা ঘণ্টা পরও থানা থেকে কেউ আসেনি। পুলিশের এমন আচরণে বিরক্তি ও সমালোচনার সৃষ্টি হয় জানাজায় আগত মুসল্লিদের মধ্যে। পরে সাড়ে ১১টায় জানাজা শেষে ১২টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমকে দাফন করা হয়।

মনোহরদী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান তারা বলেন, বারবার থানায় বিষয়টি অবহিত করার পরও তাদের এমন দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাজ অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার শামিল।

বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়া দাফন করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ ও নিন্দা জানান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ভূঁইয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।