১২, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৪ রবিউস সানি ১৪৪১

ভৈরবে স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক দেবর গ্রেফতার

আপডেট: December 2, 2019

ভৈরবে স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক দেবর গ্রেফতার

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, মোঃ মাইন উদ্দিনঃ কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকায় গত ২৮ নভেম্বর বুধবার ভোর রাতে নিজ বাসায় খুন হয় মাহাবুবুর রহমান নামে এক রেলওয়ের কর্মচারী। এই ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্ত্রী রোকসানা আক্তার ও তাঁর চাচাতো দেবর হাসিব মিয়াকে গ্রেফতার করে।

পুলিশের দাবি, হাসিবের সঙ্গে রোকসানার দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং রোকসানা তাঁর পথের কাঁটা সরাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।
স্বামীকে হত্যার আগে পায়েসের সঙ্গে প্রায় ৩০টি ঘুমের ট্যবলেট খাওয়ানো হয়েছে এমন দাবি করেছেন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) বাহালুল আলম খান।

ওই কর্মকর্তা গত (১ ডিসেম্বর) রোববার স্থানীয় সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, গত শনিবার সকালে সন্দেহভাজন হিসেবে হাসিবকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হাসিব এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবের দেয়া তথ্য মতে, শনিবার রাতে বাড়ির কাছে একটি কচুক্ষেত থেকে হত্যার সময় তাঁর পরনের রক্তমাখা শার্ট ও প্যান্ট উদ্ধার করা হয়। ফলে গতকাল রাতেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই সঙ্গে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিহত মাহাবুবের স্ত্রী রোকসানাকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। হাসিবের পর রোকসানাও স্বামী হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।

নিহতের স্বজনরা সাংবাদিকদের জানায়, মাহাবুব রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগের এসএস ফিটার পদে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক যুগ আগে মাহাবুব-রোকসানার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি সন্তান রয়েছে। নিহত মাহবুব সাপ্তাহিক ছুটিতে প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন। কিন্তু গেল সপ্তাহে এক দিন আগেই অর্থাৎ ঘটনার আগের দিন গত বুধবার রাতে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার পর ওইদিন রাতেই বেডরুমে ছুরিকাঘাতে খুন হয় মাহবুব। পরে এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মাহবুবের স্ত্রী রোকসানাকে সন্দেহের তালিকায় রেখে অজ্ঞাতনামা ৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাহালুল আলম খান আরও বলেন, শুরু থেকেই নিহতের স্ত্রীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। আর সেই সন্দেহে মুঠোফোনের সূত্র ধরে হাসিবকে শনাক্ত করা হয়। আটকের পর হাসিব রোকসানার সঙ্গে প্রেমের কথা স্বীকার করেন। তাঁরা মনে করেছিলেন, মাহবুবকে সরিয়ে দিতে পারলে তাদের পথের কাঁটা দূর হয়ে যাবে। এরপরই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দু’জনে।