৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪১

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পৈতৃক ভিটায় অযত্ন আর অবহেলায় নস্ট হচ্ছে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ম্যুরালটি

আপডেট: November 28, 2019

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় পৈতৃক ভিটায় অযত্ন আর অবহেলায় নস্ট হচ্ছে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ম্যুরালটি

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : “চলে যাব তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ প্রাণ পণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল” যে কবি এই পৃথিবী থেকে জঞ্জাল সরাতে চেয়ে ছিলেন সেই কবির ম্যুরালটি আজ জঞ্জালে পূর্ণ। নির্মাণের পর থেকেই অযতেœ পড়ে আছে। ধুলোবালির স্তর জমে গেছে ম্যুরালটির ওপর। নির্মাণের কিছু দিন পর ম্যুরালকে নিরাপত্তা দেওয়া এসএস পাইপে বানানো বেড়াটি ভেঙে যায়। ফলে ম্যুরালটির মে গরু-ছাগল উঠে প্রতিনিয়ত নোংরা করছে। কবির স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত ম্যুরালটি এ অবস্থায় দেখে কবির পৈতৃক ভিটায় ঘুরতে আসা অনেক পর্যটকই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সিকিরবাজার মোড়ে উপজেলা পরিষদের অর্থায়ণে কবি সুকান্ত ভট্টচার্যের ম্যুরালটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কিছু দিনের মধ্যে নয়ানাভিরাম এই শিল্পকর্মটি কোটালীপাড়াবাসীসহ গোপালগঞ্জ-পয়সারহাট সড়কে যাতায়াতকৃত যাত্রীদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। ম্যুরালটি দেখলে মনে হবে এ যেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য সিকিরবাজার মোড়ে বসে পথহারাকে পথ দেখাচ্ছেন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই ম্যুরালটি অযত্ন অবহেলায় পড়ে নষ্ট হতে বসেছে। এর চারপাশে অবাঞ্ছিত গাছপালা জন্মে ধীরে ধীরে ডেকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এটির রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ম্যুরালটি অযতœ আর অবহেলায় দিন দিন নস্ট হয়ে যাচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, কবির পৈতৃক ভিটায় নানা কারণে কবি উপেক্ষিত। কবিকে নিয়ে এখানে তেমন চর্চা হয় না। এমনকি এখানে তার জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকীও পালিত হয় না। বছরে একটি মেলা করেই দায়িত্ব এড়ায় প্রশাসন। একটি মেলার মধ্যে দিয়ে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যকে আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।

এখানকার অনেকেই মনে করেন, আগামী প্রজন্মের কাছে কবিকে তুলে ধরতে হলে তার নামে এখানে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। সাথে সাথে তার পৈতৃক ভিটায় নির্মিত অডিটরিয়াম ও ম্যুরাল চিত্রটি সংরক্ষণ করতে হবে।

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন একজন সাম্যবাদের কবি। তার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য কোটালীপাড়ায় তেমন কিছুই নির্মাণ করা হয়নি। তার যে ম্যুরালটি নির্মাণ করা হয়েছে তাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হতে বসেছে। আমরা মনে করি আমাদের শ্রদ্ধার স্থান থেকে দ্রুত কবির ম্যুরালটি সংস্কার করা প্রয়োজন।