৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪১

গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে সরকারের ১৫ কোটি টাকা আত্বসাৎ

আপডেট: November 28, 2019

গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে সরকারের ১৫ কোটি টাকা আত্বসাৎ

গোপালগঞ্জ সরকারী বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ সরকারী বঙ্গবন্ধু বিশ^বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো: মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,অনিয়ম,টেন্ডারবাজী ও কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা আত্বসাৎসহ নানান ধরনের অভিযোগ উঠেছে। কম্পিউটার কম্পোস করা অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) গত দু’দিন ধরে ঘুরতে ঘুরতে এখন ভাইরালে পরিনত হয়েছে।

অভিযোগের কথা শোনা যাচ্ছে কলেজের শিক্ষক/ শিক্ষার্থী ও চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মুখে মুখে। বিষয়টি বর্তমানে গোপালগঞ্জে টক-অব দ্য টাউনে পরিনত হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৫০ সালে মধুমতি নদীর পাড়ে স্থাপিত গোপালগঞ্জ সরকারী বঙ্গবন্ধু বিশ^বিদ্যালয় কলেজে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা মোট ২৬ হাজার। প্রতি বছর কমপক্ষে ৭ শত ফরম পুরন এবং ভর্তি হয়। এতে ১ কোটি ৮২ লক্ষ টাকার ফরম বিক্রী ও পুরন হয়। ২০১৮ সালে একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি ফি বাবদ নেয়া হয়েছিলো ২ হাজার ৬০০ টাকা আর ২০১৯ সালে ভর্তি ফি বাবদ নেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অনৈতিক ভাবে সাইকেল গ্যারেজ বিক্রি। ছাত্র সংসদ বাবদ ২৫ টাকা করে নেয়া হলেও গত ১০ বছর যাবত ছাত্র সংসদের কোন কার্যক্রম নাই। অনার্স আইসিটি বিষয় অর্šÍভুক্ত নাই কিন্তু সাধারন ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ২৫ টাকা করে নেয়া হয়। দারোয়ান ও বেসরকারী ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী বাবদ প্রতি ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ৫ শত টাকা করে নিলেও কর্মচারীদের নাম মাত্র টাকা দেয়া হয়। ভর্তি ও ফরম পুরনের সময় বাস ভাড়া বাবদ ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে ৬০০ টাকা করে নেয়া হয় কিন্তু কলেজে বাস গাড়ী আছে মাত্র একটি। ব্যবস্থাপনা বাবদ ১০০ ও বিবিধ খরচ বাবদ ১০০ করে টাকা নেয়া হয়। কিন্তু ওই টাকার কোন হিসাব নাই। ছাত্রী কমন রুম বাবদ ২০ টাকা করে নেয়া হলেও কোন ছাত্রী কমন রুম নাই। উন্নয়ন ফি বাবদ ২০০ করে টাকা নেয়া হলে আজও পর্যন্ত কলেজে কোন উন্নয়ন লক্ষ করা যায়নি।

২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক দ্রব্য, শিক্ষা উপকরন ইত্যাদি মালামালের টেন্ডার না করে নিজের পছন্দের লোককে কাজ দেয়া হয়। কলেজের তিন তলা ভবনের আসবাবপত্র ও ফ্যান উধাও। রাতে অন্ধকারে টেন্ডার না করে সরকারী কলেজের গাছ বিক্রী করেছেন। গত ৫ বছরে কলেজে কোন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়নি কিন্তু ক্রীড়া ফি বাবদ ছাত্র-ছাত্রী প্রতি ১০০ করে টাকা নেয়া হয়। কলেজে ব্যাংক ও গাড়ীর গ্যারেজের ছাউনির জন্য রঙ্গিন টিনের পরিবর্তে সাধারন টিন ব্যবহার করেছেন। মাসের অধিকাংশ সময় অধ্যক্ষ মো: মতিয়ার রহমান তার নিজস্ব ব্যবসা (রিয়েল এস্টেট) কাজে কলেজের বাহিরে তথা গোপালগঞ্জ জেলার বাহিরে ব্যাস্ত সময় পার করেন। ৪ হাজার ২ শত টাকা হোষ্টেল ভাড়া কিন্তু তা বাড়িয়ে গত ৪ বছর ধরে ১২ হাজার করে টাকা নেয়া হচ্ছে। যাহা অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষে দেয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনা। কলেজের পরিবহন খাতে ২৬ হাজার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বছরে দু’বার ৬০০ করে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা আদায় করেন। এতে দেখা যায় গত ৩ বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা অধ্যক্ষ মতিয়ার রহমান নিয়েছেন।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, তেল বাবদ গত ৩ বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও গত ৩ বছরে ১ কোটি টাকা তেল বাবদ খরচ করেননি। গত ৩ বছরে প্রায় ৫ কোটি টাকার ভর্তি ফরম বিক্রী করা হয়েছে। গত ৩ বছরে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা করে হোস্টেল ভাড়া নিলেও পানি-বিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোন উন্নয়ন মুলক কাজ করেননি। এ ছাড়া আইসিটি,ধর্মীয় খাত, গ্রহ্নাগার ফি, ফরম বিক্রয় এবং সরকারের অনুদানসহ ইত্যাদি খাত থেকে যে সকল টাকা পাওয়া গেছে তার কোন হদিস নাই বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সকল ঘটনার বাস্তবতা জানতে চেয়ে সরকারী বঙ্গবন্ধু বিশ^বিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো: মতিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কলেজে আসুন, চা খাই আর কথা বলি, আপনিতো গোপালগঞ্জেরই মানুষ। নেগেটিপ-পজেটিপ যেটাই থাকুক না কেন, জাতির পিতার নামের কলেজটির সুনাম ক্ষুন্ন হোক তা অবশ্যই আপনি চাননা। এ ছাড়া আমারও আর বেশী দিন চাকুরী নাই অবসরে যাওয়ার সময় প্রায় হয়ে গেছে। তাই বলছি কিছু মনে না করলে আসুন আমার অন্যন্য শিক্ষকবৃন্দও আছেন তাদের সঙ্গে বসে চা খাই আর কথা বলি এমন কথা বলে মুল বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।