৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ৭ রবিউস সানি ১৪৪১

গোপালগঞ্জে কুচিয়া ধরে স্বাবলম্বী ৫ হাজার মানুষ

আপডেট: November 25, 2019

গোপালগঞ্জে কুচিয়া ধরে স্বাবলম্বী ৫ হাজার মানুষ

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের বিভিন্ন বিল থেকে প্রতিমাসে প্রচুর পরিমাণ কুচিয়া মাছ আহরণ ও বিপণন করা হয়। এ জেলার পাঁচ উপজেলায় এই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। নানা হাট-বাজারে গড়ে উঠেছে বড় বড় আড়ৎ। সেখান থেকে সপ্তাহে প্রচুর কুচিয়া মাছ বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। গোপালগঞ্জের অর্থনীতিতে এই মাছ এভাবেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

গোপালগঞ্জ সদর, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী, মুকসুদপুর উপজেলায় রয়েছে অনেক বিল। এগুলোর মধ্যে চান্দার বিল, বাঘিয়ার বিল, কৃষ্ণ নগরের বিল, রাহুথরের বিল, মহাটালীর বিল, উজানীর বিল, হাতিয়ারার বিল, রাত খামারের বিল, বামনগরের বিল, লখন্ডার বিল, মোল্লার বিল, মিত্র ডাঙ্গার বিল, কলাবাড়ির বিল, ওড়াকান্দির, ভূতেরবাড়ি বিল, গোপালপুরের বিল, পুইসুরের বিল উল্লেখযোগ্য। এসব বিলে অসংখ্য পরিমানে কুচিয়া মাছ পাওয়া যায়।

বেসরকারি একটি সংস্থার জরিপ থেকে জানা যায়, গোপালগঞ্জের বিলগুলো থেকে প্রায় পাঁচ হাজার লোক কুচিয়া মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ময়মনসিংহের হালুরঘাট ধোবাউরা, শেরপুর এলাকার খ্রিষ্টান উপজাতি, রংপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এসব বিলে কুচিয়া মাছ ধরতে আসেন। প্রায় প্রতিদিনই এই মাছ ধরা হলেও বছরের নভেম্বর থেকে জুন মাস পর্যন্ত কুচিয়া ধরার উপযুক্ত মৌসুম।

তবে মার্চ-এপ্রিল মাসেও খাল-বিল, ডোবা-নালায় বেশি পরিমানে কুচিয়া পাওয়া যায় বলে জানান শিকারীরা। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত কুচিয়া মাছ ধরা যায়।
কুচিয়া মাছ শিকারী প্রদীপ জানান, পুকুর অথবা বিলের পাশের ছোট ছোট গর্ত চিহ্নিত করে মোটা সুতার সঙ্গে বড়শি বেঁধে তার সঙ্গে কেঁচো অথবা ছোট ব্যাঙ লাগিয়ে ওই গর্তের মধ্যে ফেলে একটু নাড়া দিলেই কুচিয়া মাছ আটকে যায়। স্থানীয় ভাবে প্রতি কেজি কুচিয়া বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।

বিপুল (৫০) নামে একজন শিকারী জানান, সরাসরি কুচিয়া মাছ বিদেশে পাঠাতে পারেন না বলে রপ্তানিকারকদের কাছে তারা এই মাছ বিক্রি করেন। রপ্তানিকারকরা এই মাছ চীন, হংকং, ভারত, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, নেপাল, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। এই মাছ ওই সব দেশে এক শ্রেণীর মানুষের প্রিয় খাদ্য। আমাদের দেশেও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ কুচিয়া মাছ খুব পছন্দ করে। এ মাছ চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এসব এলাকায় বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।