১৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদী

আপডেট: November 21, 2019

প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঝিনাইদহের নবগঙ্গা নদী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি-দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা নদী। সংস্কার, বেদখল আর কচুরিপানার কারণে নাব্যতা হারাতে বসেছিল নদীটি। অবশেষে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় পরিস্কার করা হয়েছে নদীর কচুরিপানা। সদর উপজেলার বিভিন্ন অংশে নদীটির কচুরিপানা পরিস্কার করা হয়েছে। এতে নদীটি ফিরে পেয়েছে আগের রূপ। তবে সংস্কার ও দখলমুক্ত করলে নদীটি আগের গতি ফিরে পেত বলে আশাবাদী নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।

জানা যায়, সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন জুড়ে নবগঙ্গা নদীতে কচুরিপানা জমেছিল দীঘির্দন ধরে। সে জন্য নাব্যতা না থাকায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে যায় । আর একারণে প্রতিবছর নদী দখল হয়ে যাচ্ছিল। এ বছর নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনতে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে নদী পরিষ্কারে উদ্যোগ নেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম। কর্মঠ এই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগকে সাড়া দিয়েছে স্থানীয় মানুষ। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় মৎস্যজীবিদের সহযোগিতায় চলতি মাসের শুরুর দিকে শুরু হয়েছে এ অভিযান। ইতিমধ্যে পরিস্কার করা হয়েছে শহরের প্রায় ৫ কিলোমিটার নদীর কচুরিপানা।


এলাকাবাসী মনে করেন, নদী পরিষ্কার হলে কমপক্ষে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩০-৩৫ গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে। নদীতে থাকা দেশীয় প্রজাতির মাছসহ জীব-বৈচিত্র রক্ষা পাবে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ মাসুদ লিল্টন বলেন, নদীটিতে গত ১৫-২০ বছর আগে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা নদীতে খেয়া ফেলে মাছ শিকার করত। কিন্তু কচুরিপানার কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বন্ধ হয়ে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হয়ে পড়ে। কচুরিপানা পরিষ্কারের জন্য যে কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে এতে আশা করছি নদীটিতে আগের মত মাছ পাওয়া যাবে। শহরের ভুটিয়ারগাতি এলাকার মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর সাত্তার বলেন, নদীর কচুরিপানার পরিস্কার করার কারণে নদীটির স্বাভাবিক গতিপথ ফিরে পেয়েছে। এতে উপকার হয়েছে গরীব অসহায় মৎস্যজীবিদের। এ জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এ ধরনের উদ্যোগ সকল উপজেলায় গ্রহণ করা হলে জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো আগের রূপ ফিরে পাবে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ স্যারের নির্দেশনায় নবগঙ্গা বাঁচাও’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে সদর উপজেলার নবগঙ্গা, বেগবতি ও ভৈরব নদের কচুরিপানা পরিস্কারের কর্মসূচী হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রথমে নবগঙ্গার কচুরিপানা পরিস্কার করা হচ্ছে। নদীপাড়ের মানুষের সুবিধা, মৎস্যজীবিদের সুবিধা ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে এ উদ্যোগ।