৭, ডিসেম্বর, ২০১৯, শনিবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

দুদকের বর্তমান কার্যক্রমের বাইরে বিএমএসএফ’র আরো ৭টি প্রস্তাবনা

আপডেট: November 20, 2019

দুদকের বর্তমান কার্যক্রমের বাইরে  বিএমএসএফ’র আরো ৭টি প্রস্তাবনা

ঢাকা বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯: দুদকের বর্তমান কার্যক্রমের বাইরে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএসএফ’র পক্ষ থেকে ৭টি প্রস্তাবনা দাখিল করা হয়েছে। বিএমএসএফ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর স্বাক্ষরিত এই প্রস্তাবণাটি ২০ নভেম্বর বিকেলে দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চেয়ারম্যান বরাবরে এ প্রস্তাবনা দাখিল করা হয়।

সম্প্রতি দূর্নীতি প্রতিরোধ ও দমন বিষয়ে দূর্নীতি দমন কমিশনের বর্তমান কার্যক্রমের বাইরেও আরো কি কি কার্যক্রম নেয়া যেতে পারে সে লক্ষে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের মতামত/পরামর্শ চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি শহীদুল ইসলাম পাইলট ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফরসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ৭টি যৌথ প্রস্তবণা তৈরী করা হয়।

প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে ১. প্রতিটি জেলা পর্যায়ে দুদক কার্যালয় স্থাপন করতে হবে ২. দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেক সদস্যের জীবন ইতিহাস তদন্ত করেই অন্তর্ভুক্ত করানো যেতে পারে। এই কমিটির নেতৃবৃন্দ মাঠ পর্যায়ে দূর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা সমাবেশ ও সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার প্রকাশ করবে। কমিটিতে স্থানীয় সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদেরকে সংযুক্ত করা যেতে পারে ৩. পাঠ্য বইয়ে দূর্নীতি বিরোধী একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। যাতে দূর্ণীতির কুফল, পরিনতি ও দন্ডবিধি সম্পর্কিত বিশদ আলোচনা শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরা যায় ৪. দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটিতে বিশেষ করে যারা কমিটিতে থাকবেন তাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা, মসজিদের ইমাম, পুরোহিত, প্রাথমিক স্কুল, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক, স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ঠিকাদার, আইনজীবি, ব্যবসায়ী, ছাত্র, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শ্রমিক নেতা, কৃষক, জনপ্রতিনিধি, নারীনেত্রী ও এনজিও প্রতিনিধিদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। কমিটির সদস্যদেরকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। যাতে করে তারা দূর্ণীতি কি এবং কেন এ সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান অর্জণ করতে পারেন ৫. স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ‘দূর্ণীতি প্রতিরোধ শিক্ষার্থী সংসদ’ নামে কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

এ সকল শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতে দূর্ণীতি বিরোধী শপথ গ্রহনের মধ্য দিয়ে কøাশ শুরু করবে। পাশাপাশি দূর্ণীতিবিরোধী কর্মকান্ডে নিজেরা অংশ নিতে পারবে ৬. দূর্ণীতিতে আসক্ত হচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের মাদকাসক্তদের মত প্রাথমিক তালিকা তৈরী করে দূর্ণীতির কুফল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত সেমিনারের আয়োজন করা যেতে পারে ও ৭. দূর্ণীতি দমন কমিশনের হটলাইন নাম্বার তৃনমূল পর্যায়ে পৌঁছাইতে হবে। যাতে দ্রুত এবং তাৎক্ষনিক দূর্ণীতির তথ্য দুদকের নিকট পৌঁছাতে পারেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম মনে করে প্রস্তাবণাগুলো গৃহীত হলে সমাজের নানা পেশার সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশে চলমান দূর্ণীতিরোধ সম্ভব হবে। আর এই দূর্ণীতিরোধ হলেই জাতিরজনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা লাভ হতে বাধ্য।