৭, ডিসেম্বর, ২০১৯, শনিবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪১

অতঃপর একটি গ্রামের বিলুপ্তির সূচনা

আপডেট: November 19, 2019

অতঃপর একটি গ্রামের বিলুপ্তির সূচনা

তামান্না ইসলাম: রাজধানী ঢাকার প্রাচীন জনপদ বেরাইদ।ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত এই এলাকাটি বিগত ১০ বছরের ব্যবধানে পূর্বের চিত্র পাল্টে গেছে।১০বছর পূর্বেও যেখানে চিরায়ত গ্রামবাংলার রুপ দেখতে পাওয়া যেত।মসজিদের গ্রাম বলে পরিচিত বেরাইদ এলাকাটিতে আবাসন প্রকল্প,শিল্পকারখানা নির্মানের ফলে পূর্বের চিরায়ত গ্রামবাংলা বর্তমানে আধুনিক শহরে পরিনত হচ্ছে।বেরাইদ এলাকাটি বর্তমানে পূর্বের চেয়ে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।বালু নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠা জনপদটি বর্তমানে নারায়ণগগঞ্জ,গাজীপুরসহ অন্যান্য জেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষায় ১০০এবং ৩০০ ফিট সড়কটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের সদ্যঘোষিত নতুন মেগা প্রজেক্ট মেট্রোরেল প্রকল্প নির্মানের আওতায় পড়েছে বেরাইদ এলাকার কিছু অংশ।প্রকল্পের মানচিত্র প্রকাশিত হবার পর বেরাইদ এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।মেট্রোরেল প্রকল্পটি বেরাইদ এলাকার মাঝামাঝি স্থান দিয়ে অতিক্রম করবে তাই এলাকার আগারপাড়া,চটকিপাড়া, ভূঁইয়াপাড়াসহ অন্যান্য অংশের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।স্থানীয় একজন লোক জানান,”আমার পূর্বপুরুষ বেরাইদের বাসিন্দা। আমি ঘুমাতে যাওয়ার আগে ও ঘুম থেকে উঠার পর আমার আত্নীয় স্বজনদের দেখি।আমার বাড়ি মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতায় পড়ায় আমাকে আমার বসতবাড়ি ছাড়তে হবে।সরকার যা টাকা দিবে তা অল্প, বেরাইদ অন্য অংশে থাকারজায়গাকেনার মতো জায়গা খালি নেই, আবাসিক কোম্পানিগুলো কিনে নিয়েছে।কত স্মৃতি আমার এই এলাকার সাথে।”অন্য আরও একজন জানান,”ছোট বেলা থেকে আমি এই এলাকায় মানুষ।আমার সব আত্মীয় এলাকায় থাকে।অন্য এলাকায় যাইতে হবে এটা ভাবলেই কষ্ট লাগে।”এছাড়াও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনাকেন্দ্র মন্দিরসহ অন্যান্য স্থাপনা ভাংতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহনকারী, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বেরাইদ এলাকাটি বর্তমানে বিলুপ্তের পথ সূচনা করছে। এলাকার একজন প্রবীণ লোক জানান,১০বছর পর বেরাইদ এলাকার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ হয়। এলাকাটির চিনাদিপাড়া দিয়ে ৪৫০ ফিট রাস্তাসহ বেরিবাধ অতিক্রম করবে।
তাই বেরাইদ এলাকার অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।