২২, নভেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

গাজীপুরের বিলাসপুরে রিনা আক্তার হত্যার মূলহোতা হোসেন সহ গ্রেফতার-৩

আপডেট: November 9, 2019

গাজীপুরের বিলাসপুরে রিনা আক্তার হত্যার মূলহোতা হোসেন সহ গ্রেফতার-৩

মোঃরফিকুল ইসলাম মিঠু। গাজীপুরের বিলাসপুর এলাকায় রিনা আক্তার(৪৫) এর হত্যাকারী মূলহোতা হোসেন সহ ০৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১, গাজীপুর ক্যাম্প।

গত ০৩ নভেম্বর গাজীপুর জেলার সদর থানাধীন বিলাসপুর এলাকায় ভিকটিম রিনা আক্তার(৪৫)’কে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয় এবং তার স্বামী মোঃ সিদ্দিক বেপারী(৫০)কে হত্যার উদ্দেশ্যে হাত-পা মুখ বেধে ধারালো অস্ত্র দ্বারা শরীর এর বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপায়ে গুরুতর জখম করে মৃত্যু ভেবে মেঝেতে ফেলে রাখে। উক্ত হত্যা কান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ভিকটিম দম্পত্তির আপন ভাইয়ের ছেলে ১। মোঃ হোসেন@আপন(১৯), এবং তার ঘনিষ্ঠ অপর দুই বন্ধু ২। মোঃ ইমন রায়হান(১৮), ৩। মোঃ রায়সুল ইসলাম রিফাত(১৯) হত্যা কান্ড ঘটিয়ে রক্তাক্ত জামা-কাপড় পড়া অবস্থায় দ্রুত পালিয়ে যায়। উক্ত খুনের ঘটনার ঘটার সাথে সাথে খুনীদের আইনের আওতায় আনার জন্য তাদেরকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-১, স্পেশালাইজড কোম্পানী, পোড়াবাড়ী ক্যাম্প কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল-মামুন, (জি), বিএন র‌্যাবের সোর্স নিয়োগসহ সকল ধরনের গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসিতেছিল।

এরই ধারাবাহিকতায়ঃগত ০৮ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ১৯.১৫ র‌্যাব-১, স্পেশালাইজড কোম্পানী, পোড়াবাড়ী ক্যাম্প, গাজীপুর এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, উক্ত হত্যা কান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত মোঃ রায়সুল ইসলাম রিফাত(১৯) ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় সু-কৌশলে আত্মগোপন করে আছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অত্র কোম্পানীর কোম্পানী কমান্ডার লেঃ কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন, (জি), বিএন এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার/ফোর্স সহ ঢাকার আশুলিয়া এলাকা হইতে ভিকটিম রিনা আক্তার(৪৫) এর খুনী এবং তার স্বামী মোঃ সিদ্দিক বেপারী(৫০) এর গুরুতর জখমের সাথে সরাসরি জড়িত আসামী মোঃ রায়সুল ইসলাম রিফাত(১৯), পিতা-মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মাতা-মোসা-রিতা ইসলাম, সাং-ঝাউচর, থানা-সাভার, জেলা-ঢাকা, এ/পি-সাং-গৌরিপুর চাঁনগাঁও, থানা-আশুলিয়া, জেলা-ঢাকা’কে গ্রেফতার করে। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী মোঃ রায়সুল ইসলাম রিফাত(১৯) উক্ত খুনের কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার সাথে জড়িত তার অপর দুই বন্ধু হত্যাকান্ডের মুলহোতা হোসেন এবং রায়হানের নাম প্রকাশ এবং তার তথ্যমতে অদ্য ০৯/১১/১৯ তারিখ রাত অনুমান ০২.০০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-১, স্পেশালাইজড কোম্পানী, পোড়াবাড়ী ক্যাম্প, গাজীপুরের অভিযানিক দলটি আসামী রায়হানের নানার বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর বাজার হইতে আসামী ১। মোঃ হোসেন@আপন(১৯), পিতা-মৃত আঃ হামিদ বেপারী, মাতা-কহিনুর বেগম, সাং-বঙ্গেরচর (নদী ভাঙ্গা), থানা ও জেলা-ভোলা, এ/পি-আশুলিয়া চারাবাগ মুন্সি পাড়া (নুরুর বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা-আশুলিয়া, জেলা-ঢাকা, আসামী ২। মোঃ ইমন রায়হান(১৮), পিতা মোঃ জহির রায়হান, মাতা-ইতি বেগম, সাং-নারায়নপুর, থানা-মোহাম্মদপুর, জেলা-মাগুরা, এ/পি-আশুলিয়া গৌরিপুর (দুলালের বাড়ীর ভাড়াটিয়া), থানা-আশুলিয়া, জেলা-ঢাকা’দ্বয়কে আটক করা হয়। আসামীদের আটক করার পর উক্ত খুনের ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণী শুনে তাজ্জব হয়ে যায়।

ঘটনার বর্ণনাঃ গ্রেফতারকৃত আসামী হোসেন, রিফাত, রায়হান এবং তিন জনই একেঅপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দীর্ঘদিন যাবৎ বখাটে তিন বন্ধু মাদকাসক্ত ও এলাকায় মারামারি করে বেড়ায়। তাদের মধ্যে স্বপ্ন জাগে বড় সন্ত্রাসী হয়ে প্রচুর টাকা আয় করবে সমাজের সর্ব স্তরের মানুষ তাদের নাম শোনা মাত্র ভয় পাবে। এই স্বপ্নের বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে হোসেন@আপন প্রস্তাব দেয় তার চাচা মোঃ সিদ্দিক বেপারী অনেক টাকার মালিক, তিনি গাজীপুর সদর থানার বিলাসপুর এলাকায় ৬তলা বাড়ি নির্মাণ করছে, সেখানে চাচা, চাচী ও তাদের ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন(২০) ও তার বউকে পর্যায়ক্রমে হত্যা করে ১০/১৫ লাখ টাকা ও স্বর্ণলংকার নিয়ে চলে যাবে। এছাড়া হোসেনের চাচাতো ভাই দেলোয়ারের সুন্দরী স্ত্রীর উপর কুনজর ছিল হোসেনের।
হো
সেনের পরিকল্পনা মোতাবেক গত ০২ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ সকালে তিন বন্ধু ব্যাগে চাকু ও রশি নিয়ে আশুলিয়া হতে রওনা দিয়ে দুপুরে গাজীপুরে হোসেনের চাচা মোঃ সিদ্দিক বেপারী এর বাসায় পৌঁছে খাবার খেয়ে তিন বন্ধু ছাদে বসে প্ল্যান করে। তাদের প্লানিং ছিল ভোর রাতে হোসেনের চাচা মোঃ সিদ্দিক বেপারী যখন ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাবে তখন প্রথমে চাচীকে হত্যা করবে, তারপর চাচা মসজিদ থেকে বাসায় ফিরলে চাচাকে হত্যা করবে; এরপর চাচাতো ভাই এবং সর্বশেষে চাচাতো ভাবীকে তিনজন ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করে বাসায় রক্ষিত নগদ টাকা ও স্বর্ণলংকার নিয়ে পালিয়ে যাবে এবং ডাকাতির টাকা দিয়ে তারা তিন বন্ধু আসামী মোঃ হোসেন@আপন(১৮) ০১টি ফ্লাট বাসা ও ০১ টি পিস্তল এবং ০১ টি মোটর সাইকেল ক্রয় করবে। অপর দুই আসামী রিফাত এবং রায়হান এর স্বপ্ন ছিল ০১ টি পিস্তল এবং ০১ টি মোটর সাইকেল ক্রয় করে তাদের সন্ত্রাসী জীবন পরিচালনা করবে। তাদের পরিকল্পনা মতো হোসেনের চাচা মোঃ সিদ্দিক বেপারী ভোর রাতে নামাজের উদ্দেশ্য বের হলে চাচী রিনা আক্তার(৪৫) কে ডেকে তুলে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে বিছানায় শোয়ায়ে রাখে।

পরবর্তীতে চাচা মসজিদ থেকে ফেরত আসলে তাকেও রশি দিয়ে বেধে ফেলে জবাই করার চেষ্টা করে এবং ধারালো অস্ত্র দ্বারা তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপায়, চাচা মৃত্যুর ভান ধরে ফ্লোরে শুয়ে থাকলে আসামীরা বাসার আলমারি ভেঙ্গে নগদ ০৩ লাক্ষ টাকা ও বিপুল পরিমানের স্বর্ণলংকার নিয়ে নেয় এবং চাচাতো ভাই দেলোয়ারকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার শয়ন কক্ষের দিকে গেলে হোসেনের চাচা ভিকটিম মোঃ সিদ্দিক বেপারী গুরুতর আহত অবস্থায় সিড়ির নিকট যেয়ে চিৎকার দিয়ে পড়ে যায়; ফলে সকাল হয়ে যাওয়ার কারণে আশপাশের লোকজন ছুটে আসতে থাকলে তিনজন তিন দিকে রক্তাক্ত জামা পড়া অবস্থায় ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার ০৪ দিন পর র‌্যাব-১, স্পেশালাইজড কোম্পানী, পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের অভিযানিক দলটি আশুলিয়া এলাকা হতে আসামী মোঃ রায়সুল ইসলাম রিফাত(১৯) কে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যমতে একই দিনে অপর দুই আসামী হোসেন@আপন(১৯) এবং ইমন রায়হান(১৮) দ্বয়কে মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর বাজার হতে গ্রেফতার করে। উক্ত ঘটনার গুরুতর আহত ভিকটিম ধৃত আসামী হোসেন এর চাচা মোঃ সিদ্দিক বেপারী(৫০)কে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরাস্থ লেকভিউ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামীকে গাজীপুর সদর থানায় হস্তান্তরের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।