১৮, নভেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

ঝালকাঠিতে চলতি মাসে অস্বাভাবিক হাড়ে বেড়েছে কিশোর গ্যাং বাহিনী

আপডেট: November 7, 2019

ঝালকাঠিতে চলতি মাসে অস্বাভাবিক হাড়ে বেড়েছে কিশোর গ্যাং বাহিনী

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: পরনে টি-শার্ট, জিন্স প্যান্ট, চোখে সানগ্লাস। চুলে নিত্যনতুন স্টাইল পাড়া, মহল্লা, অলিগলি ও ফুটপাতে জমিয়ে আড্ডা দেয় তারা , এমনকি স্কুলের সময় দেখা যায় পৌর মিনি পার্ক স্কুল পালিয়ে আড্ডা দেয় মেয়েদের ইভটিজিং করে। এবং স্কুল ছুটির পরে দলে দলে পৌর মিনি পার্কের সামনে গ্রুপ ভাগ হয় মারামারিতে লিপ্ত থাকে।প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করে দামি লাইটার দিয়ে ধরিয়ে হিরোদের মতো দেয় টান। উচ্চস্বরে গায় হিন্দি কিংবা ইংরেজি গান, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ক্ষেত্রে কোনো বয়স বিবেচনা নেই তাদের। রাত বাড়লেই ঝালকাঠির বিশেষ কিছু এলাকায় শুরু হয়ে যায় এমন ‘ডিসকো পোলাদের মোটর ও কার রেসিং। এলাকাভেদে এদের রয়েছে পৃথক গ্রুপ। একেকটি গ্রুপকে ‘গ্যাং বলা হয়।

তাদের গ্যাং বিভিন্ন ভাবে চালাচ্ছে তাদের অপকর্ম।অনেক কিশোর এখন গোটা ঝালকাঠি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। যাদের অনেকেই নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অধিকাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় দণ্ডবিধি অনুযায়ী পুলিশ এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারে না।কিছুদিন আগে এর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছিল জেলা পুলিশ,ঝালকাঠি।বেশ কিছুদিন নিরব থাকলেও বর্তমানে বেড়েছে এর প্রকোপ,

মূলত মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, পার্টি করা, হর্ন বাজিয়ে প্রচন্ড গতিতে মোটর বা কার রেসিং করা, খেলার মাঠ নিয়ন্ত্রণ করা,নিজেদের পাওয়ার বা অবস্থান জানান দেওয়া, এমনকি মাদক গ্রহণ প্রভৃতি কর্মকান্ড ঘিরে গড়ে ওঠেছে এসব কিশোর গ্যাং গ্রুপ। গ্যাং কালচারে বাড়ছে কিশোর অপরাধ।

এ প্রসঙ্গে সুশীল সমোজের জনমানুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়,সমাজে নানা অসঙ্গতি রয়েছে। নিজেদের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে কিশোররা। তাদের আচরণে পরিবর্তন হচ্ছে। কিশোর বয়সে হিরোইজম ভাব থাকে। এই হিরোইজমকে সঠিক পথের অনুসারী করে তুলতে হবে। আবার কিশোরদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার কারণে তাদের মধ্যে এক ধরণের গ্যাং কালচার গড়ে উঠছে। এর দায় আমাদের সবার। অনেক ক্ষেত্রে ভিনদেশি সংস্কৃতি ইচ্ছামত তাদের আয়ত্বে চলে যাওয়ায় কিশোরদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সমাজের শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি বা যাদের কথা শুনবে-এমন ব্যক্তিদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগে এই গ্যাং কালচার থেকে বিপদগামী কিশোরদের সুপথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

জেলা পুলিশের অভিযানের তৎপরতায কিছুদিনের জন্য গ্যাংগুলো আড়ালে চলে গেলেও চলতি মাসে প্রথম দিকে বেড়েছে এসব গ্যাং দের আধিপত্য
কয়েকজন শিক্ষকের সাথে আলাপ করলে তারা জানায় কিশোরদের মধ্যে এ্যাডভেনচার ফিলিং বা হিরোইজম ভাব বেশি দেখা যায়। কিশোর বয়সে বেড়ে ওঠার পরিবেশ তাকে অপরাধী হয়ে উঠতে সহায়তা করে। তারা এই বয়সে এমন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে বা ফলো করে- সেখান থেকেই তারা অপরাধের দিকে ধাবিত হয়। কিশোর বয়সে ইতিবাচক চর্চার দিকে ধাবিত না হয়ে নেতিবাচক চর্চার দিকে চলে যায়। আবার যখন তারা দেখে যে অপরাধ যারা করছে তারা সমাজে বেশি লাভবান হচ্ছে, সেটা কিশোররা অনুসরণ করে।

তাদের ওপর পারিবারিক ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ থাকে না। গরিব ও ধনী-দুই শ্রেণির পরিবারের কিশোরদের মধ্যেই এই গ্যাং কালচারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিশোরদের গ্যাং কালচার থেকে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে ।তাই এদেরকে সংশোধন করতে সর্বপ্রথম অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ব্যাপারে একটু খোঁজ-খবর রাখলে তাদের অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।বলে জানিয়েছে সুশিল সমাজের জনমানুষ।

এক অনুসন্ধানে দেখা যায় শহরের বাইরেও গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক ভাবে বেড়েছে এই কিশোর গ্যাং। ছড়িয়ে পড়ছে মাদক, পার্টি ও ইভটিজিং এর মতো সমাজ হুমকির মুখে পরার মতো ঘটনা।কে এই গ্যাংয়ের কিশোররা শহরেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে উঠেছে কিশোরদের গ্যাং। দামি মোটরসাইকেলে করে শহরে ঘুরে বেড়ানো, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা, মাদকসেবনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।