২২, নভেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

হাতের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঘাড় মটকালেন চিকিৎসক

আপডেট: November 5, 2019

হাতের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঘাড় মটকালেন চিকিৎসক

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নে এক নারী হাতের ব্যথার চিকিৎসা নিতে গিয়ে ঘাড় মটকে দিলেন এক চিকিৎসক। ঘড় ও গলায় আঘাত পেয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ছেন আফরোজা বেগম (৫০) নামে এক অসহায় নারী।

মঙ্গলবার দুপুরে রোগী আফরোজা বেগম পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাটগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। ওই ভুক্তভুগী আফরোজা বেগম পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের ৫ নং ওয়ার্ডের মৃত এন্তজ উদ্দিনের মেয়ে।

এঘটনায় রংপুর পাগলাপীর এলাকায় ওই চিকিসকে খোঁচ খবর নিতে চাইলে ওই চিকিৎসকের সহকারী আরিফ মিয়া জানান, স্যার বর্তমানে ইতারিতে অবস্থান করছেন। ভুক্তভুগী ওই রোগী আফরোজা বেগম বলেন, পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা বাজারে চিকিৎসক আবু সাঈদের কাছে হাত ব্যথার চিকিৎসা নিতে গেলে তিনি চিকিৎসা দেওয়ার পর তিনি রংপুর পাগলাপীরের এক চিকিৎসকের কথা বলেন। ওই চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিলে আপনি সুস্থ হবেন বলে তিনি জানান। গত ১০ অক্টোবরে রংপুর পাগলাপীরের হেল্থ কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক হাবিবুর রহমান নয়নে কাছে ৩ হাজার টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে গেলে তিনি সব শুনে প্রথমে তার গলা ও ঘাড় মটকাতে শুরু করেন। এর পর তিনি প্রচুর গলায় ও ঘাড়ে আঘাত পান। বাড়ি ফিরার পর গলায় ভিষন ব্যথা শুরু হয় এবং গলার গুটি গুটি সৃষ্টি হয়। এর পর দিন দিন গলা ফুলে যেতে শুরু করেন। পরে ওই চিকিৎসক এ কথা শুনে বিভিন্ন ভাবে টালবাহানা শুরু করে। আর বলেন আপনি গলার ডাক্তারকে দেখান আমি এটা ঠিক করতে পারব না। তাদের ভুল চিকিৎসায় গলাফুলে গেলে আমি নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করি। আমি ভুয়া ডাক্তারের বিচার চাই। আমাকে সুস্থ করে দিন। হাতে টাকা পয়সা না থাকায় চিকিৎসা নিতে পারছি না।

বাউরা বাজারের ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসক আবু সাঈদ সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার পরামর্শে তিনি সেখানে গিয়েছেন। ভুল চিকিৎসার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

রংপুরে পাগলাপীর এলাকার হেল্থ কেয়ারের চিকিৎসক হাবিবুর রহমান নয়ন বলেন,এটাই আমার চিকিৎসার পদ্ধতি। আমি ভুল চিকিৎসা প্রদান করিনি।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলার নির্বাহী অফিসার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ভুমি কমিশনার দীপক কুমার দেব শরর্মা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি যেহেতু জেলার বাহিরে তাই তিনি লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগ করতে বলেছি।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্তকর্মকতা (ওসি) সুমন কুমার মোহন্ত বলেন,অভিযোগের বিষয় আমি জেনেছি। অভিযোটি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।