১৫, নভেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

পেঁয়াজ কারসাজিতে চট্টগ্রাম-টেকনাফে ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্টান : ব্যবসায়ীদের ভিন্ন বক্তব্য।

আপডেট: November 5, 2019

পেঁয়াজ কারসাজিতে চট্টগ্রাম-টেকনাফে ১৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্টান : ব্যবসায়ীদের ভিন্ন বক্তব্য।

খাঁন মাহমুদ আইউব, স্টাফ রিপোর্টার: চলমান অস্থীর পেয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রনে মাঠে নেমেছে সরকারী কয়েকটি সংস্থা। চট্টগ্রাম অঞ্চলে পেয়াজের বাজার কারসাজিতে জড়িত এমন ১২ জন টেকনাফ স্থল বন্দর ব্যবসায়ী ও চট্টগ্রামের ৪ টি প্রতিষ্টানের নাম প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সোমবার এসংক্রান্ত একটি তালিকা বানিজ্য মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়েছে। এই বিষয়ে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য জানা গেছে। মিয়ানমার থেকে অধিক মূল্যে পেয়াজ আমদানী করার ফলে বাজারে পেয়াজ চড়াদামে বিক্রি হচ্ছে এমনটি অভিমত পেয়াজ আমদানী কারকদের।

তালিকায় টেকনাফে যাদের নাম স্থান পেয়েছে, সজিব (আমদানিকারক), ম ম রাখাইন (আমদানিকারক), জহির (আমদানিকারক), সাদ্দাম (আমদানিকারক), কাদের (সিএন্ডএফ এজেন্ট), ফোরকান (বিক্রেতা), শফি (দালাল/ব্রোকার), গফুর (বিক্রেতা), মিটু- (দালাল/বিক্রেতা), খালেক (বিক্রেতা), টিপু (বিক্রেতা) ও মেসার্স আলীফ এন্টারপ্রাইজ।

চট্টগ্রামে রয়েছে, খাতুনগঞ্জের মেসার্স আজমীর ভান্ডার ও মেসার্স আল্লার দান স্টোর। স্টেশন রোডের (নূপুর মার্কেট)- মেসার্স সৌরভ এন্টারপ্রাইজ, ঘোষাল কোয়ার্টার (খাজা দস্তগীর ম্যানশন)- এ হোসেন ব্রাদার্স,

এদিকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মতে, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও কমিশন এজেন্টসহ আড়তদারদের এই চক্রটি মিয়ানমার থেকে ৪২ টাকা দরে আমদানীকৃত পেঁয়াজ পাইকারী বাজারে ৯০ থেকে ১শ ১০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য করছে এমনটি অভিযোগ উঠে এসেছে। (সোমবার)এদের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে এই সংক্রান্ত একটি তালিকা বানিজ্য মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

প্রশাসনের বক্তব্যের বিরোধিতা করে টেকনাফ স্থল বন্দরের জিন্নাত এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী শওকত জানান, গেলো মাসে তিনি ৩০ লক্ষ টাকার পেয়াজ আমদানী করেন। কিছু পেঁয়াজ পচে যাওয়ায় ১৫ লক্ষ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন। পেয়াজের দাম বাড়তি তাই তিনি পেঁয়াজ আমদানী বন্ধ রেখেছেন।

সবুজ এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন জানান, বর্তমানে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ কিনে টেকনাফ বন্দরে পৌছাতে কেজি প্রতি ৭৫-৭৭ টাকা খরচ। বন্দর থেকে চট্টগ্রাম পাইকারী বাজারে পৌছাতে কেজি প্রতি বাড়তি ৮/৯ টাকা খরচ যোগ হয়ে প্রতি কেজি পেয়াজের মূল্য ৮৫ থেকে ৮৭ টাকায় এসে দাড়াঁয়। সুতরাং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কিসের উপর ভিত্তি করে ৪২ টাকা আমদানী মূল্য বলে বক্তব্য জানিয়েছে সেটা বোধগম্য নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন ব্যবসায়ী জানান, বন্দরে (ব্রোকার বা দালাল) শফি, মিটু, খালেক, গফুর ও টিপু মিলে চট্টগ্রামের পাইকারদের কাছ থেকে মূলধন নিয়ে ভালো মানের পেয়াজ সর্বরাহ করার নামে কিছু পঁচা পেয়াজ সর্বরাহ করার ফলে পাইকারী বাজারে কিছুদিন আগে দামে ছন্দ পতন ঘটেছিলো।

এছাড়াও সোমবার রাতে মিয়ানমার কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে ফোনালাপে জানা যায়, পেয়াজের শেষ মৌসুমে দাম একটু বাড়তি রয়েছে। রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০-৭২ টাকা বাজার দর রয়েছে।