১৮, নভেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

নীলফামারীর গ্রাম হচ্ছে শহর, নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে গ্রামীন জনপদ

আপডেট: November 4, 2019

নীলফামারীর গ্রাম হচ্ছে শহর, নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে গ্রামীন জনপদ

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর,নীলফামারী প্রতিনিধি॥ কুচকুচে অন্ধকার। রাতের গ্রামীণ মেঠোপথ মানেই সাধারণ পথযাত্রীদের ভয়ে ভয়ে চলাফেরা করা। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামের রাস্তাগুলো অন্ধকারাচ্ছন্ন। প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠোপথ গুলো সন্ধ্যার পরেই কুচকুচে অন্ধকার হয়ে পড়তো। সেই রাস্তাগুলো আলোর রশ্মিতে আলোকিত হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পরেই বাতিগুলো জলে উঠায় সড়ক, গ্রামের মেঠোপথগুলো শহরী রাস্তায় পরিণত হয়েছে। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রাতের সড়ক, প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠোপথগুলো আলোয় আলোকিত হয়েছে। স্থানীয় সাংসদের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদের সড়ক, মেঠো পথগুলোতে ষ্ট্রীট লাইট বসানোয় কিশোরগঞ্জ উপজেলার মেঠোপথগুলো হয়ে উঠেছে আলোকিত মেঠোপথে। প্রধানমন্ত্রীর ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার এখন গ্রামীণ সড়কগুলোকে সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করছে।

জানা গেছে- উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ন রাস্তাসহ প্রত্যন্ত গ্রামের মেঠোপথগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ১ শ’ ৫১ টি ষ্ট্রীট লাইট বসানো হয়েছে। এসব ষ্ট্রীট লাইটের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে গ্রামীণ রাস্তাগুলো। এর সুফল পাচ্ছেন কিশোরগঞ্জ উপজেলাবাসী। ষ্ট্রীট লাইট বসানোয় গ্রামীণ মেঠোপথগুলো আলোয় আলোকিত হয়ে উঠেছে।

উপজেলার তারাগঞ্জ টু কিশোরগঞ্জ রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানোয় হয়েছে ১৮টি ষ্ট্রীট লাইট, মাগুড়া টু কিশোরগঞ্জ রাস্তায় ১৫ টি। উপজেলার বড়ভিটা, পুটিমারী, নিতাই, বাহাগিলী, চাঁদখানা, কিশোরগঞ্জ, রণচন্ডী, গাড়াগ্রাম ও মাগুড়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার মেঠোপথের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ১শ’ ৫১টি ষ্ট্রীট লাইট। ফলে কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মেঠোপথগুলো হয়েছে আলোকিত। রাত হলেই রাস্তাগুলোতে জ্বলে উঠছে বাতির আলো।
বড়ভিটাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলার রহমান জানান- বড়ভিটা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার রাস্তায় ষ্ট্রীট লাইট বসানোয় সাধারণ পথযাত্রীরা নির্ভিঘ্নে রাতে চলাচল করতে পারছে। এর সুফল বড়ভিটা ইউনিয়নসহ গোটা উপজেলাবাসী পাচ্ছে। তবে রাস্তাগুলোয় আরও বেশি করে ষ্ট্রীট লাইট বসানো হলে ভাল হতো।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাই সরকার জানান- উপজেলার প্রতিটি রাস্তায় ষ্ট্রীট লাইট বসানো কাজ চলছে। এ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে ষ্ট্রীট লাইট বসানো হয়েছে। ষ্ট্রীট লাইট বসানো কাজটি চলমান থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম আজাদ জানান- কিশোরগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোতে ষ্ট্রীট লাইট বসানো হয়েছে। ষ্ট্রীট লাইট বসানোয় এর সুফল পাচ্ছে কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষগুলো। গ্রামের রাস্তাগুলো হয়েছে আলোকিত। রাত নামলেই এক সময়ের অন্ধকার রাস্তাগুলো আজ আলোয় আলোকিত হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেল বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছি মাত্র। তারই ফলশ্রুতিতে আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোকে সৌর বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করা হয়েছে। যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভিঘেœ রাতে চলাচল করতে পারে। শুধু রাস্তাই নয় মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠা, মোড় ও ছোট ছোট বাজারে বসানো হয়েছে ষ্ট্রীট লাইট। এর ফলে উপজেলাবাসী নিরাপত্তাসহ নির্ভিঘেœ চলাফেরা করতে পারছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারে বর্তমান সরকারের সোলার স্থাপন প্রকল্পটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে মানুষের পাশাপাশি পরিবেশও উপকৃত হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ শুধু পরিবেশ বান্ধব তাই নয়, এটি সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। এছাড়া সরকারি সুযোগ সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।