১৮, নভেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীকে মারধর করলেন ঠিকাদার

আপডেট: November 4, 2019

হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীকে মারধর করলেন ঠিকাদার

আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নেসকো লিমিটেডের বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদার ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

রোববার দুপুরে ওই উপজেলা বড়খাতা এলাকার ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম সজীব ও তার ভাই মাহাবুবুর রহমান কাজল হাতীবান্ধায় বিদ্যুৎ অফিসে সহকারী প্রকৌশলী রকি দাসকে মারধর করেন। এ সময় ওই অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী অনিত কুমারকেও মারধরের চেষ্টা করেন সজীব ও কাজল নামে দুই ভাই। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নেসকো লিমিটেড নামে একটি কোম্পানীর মাধ্যমে এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবারহ করে আসছে। তবে ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম সজীবের দাবী, বিদ্যুৎ বিভাগে অনিয়মে ভরপুর। আমি একজন গ্রাহক হিসেবে প্রতিবাদ করেছি মাত্র।

হাতীবান্ধা উপজেলা বিদ্যুৎ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনিত কুমার বলেন, বড়খাতা এলাকার মোফাজ্জল হোসেনের পুত্র মাহাবুবুর রহমান কাজল তার বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে অবৈধ ভাবে একটি আবাসিক বিদ্যুৎতের মিটার ব্যবহার করে আসছেন। বিষয়টি জানার পর গত ৩১ অক্টোবর হাতীবান্ধা বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী রকি দাস ওই মিটারটি খুলে অফিসে নিয়ে আসেন। রোববার দুপুরে মাহাবুবুর রহমান কাজল ও তার ছোট ভাই ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম সজীব বিদ্যুৎ অফিসে এসে বাক-বিতন্ডা শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা সহকারী প্রকৌশলী রকি দাস ও মিটার রিডার আবেদ আলীকে মারধর করতে থাকে। আমি তাদেরকে রক্ষার চেষ্টা করলে আমাকেও মারতে এগিয়ে আসে ওই দুই ভাই। পরবর্তীতে অফিসের লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুরো বিষয়টি আমি আমার কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম সজীব বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগে অনিয়মের শেষ নেই। ২০১৬ সালের বিদ্যুৎ বিল আজো পায়নি। অথচ, ওই মিটার কিছু না জানিয়ে খুলে নিয়ে আসে। একজন গ্রাহক হিসেবে তাদের এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন। ফলে সহকারী প্রকৌশলীকে একটা ধাক্কা দেয়া হয়েছে মাত্র।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের রংপুর অঞ্চলের সুপারেন্টেন ইঞ্জিনিয়ার (এসি) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, মাহাবুবুর রহমান কাজল ও তার ভাই জাহিদুল ইসলাম সজীব বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনদের মারধর করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেছি। একটু অপেক্ষা করেন আপনারা সবাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ফলাফল দেখতে পাবেন।