২১, নভেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াই বিভাগ বৃদ্ধি, সংকটে বশেমুরবিপ্রবি

আপডেট: November 4, 2019

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়াই বিভাগ বৃদ্ধি, সংকটে বশেমুরবিপ্রবি

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। ক্লাসরুম সংকটের কারণে তাদেরকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে গাড়ীর গ্যারেজ এবং তাবুর নিচে। বিগত সময়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করেই ক্রমাগত আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান শিক্ষক-শিক্ষর্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গত পাঁচ বছরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে কোটাসহ বিশ্ববিদ্যালয়টি আসন সংখ্যা ছিলো প্রায় ৪৫০টি। ২০১৫ সালে সাবেক ভিসি খোন্দকার নাসিরউদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণের পর কোনো ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করেই আসন সংখ্যা করেন ১৫শ’টি। ২০১৬-১৭ শিক্ষা বর্ষে আসন সংখ্যা করা হয় ২২শ’টি। ২০১৭-১৮ আসন সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ৩ হাজার। সর্বশেষ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতেও আসন সংখ্যা রাখা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার।

এই পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ চালু করা হয়েছে প্রায় ২০ টি, আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৭ গুণ, শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২০০ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজারে। কিন্তু অবকাঠামোগত তেমন উন্নয়ন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা বিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবনটি ২০১১ সালে নির্মিত। ২০১৫ থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা কর্মচারীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও ২০১৪ এর পর এখন পর্যন্ত এই ভবনটিকে কোনো রুপ বর্ধিত করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি পাঁচতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের একটি ২০১৪ এর পূর্বে নির্মিত এবং অপরটির নির্মাণ কাজ ২০১৬ সালে শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ছাত্র হল এবং দুটি ছাত্রী হলের মধ্যে দুটি ছাত্র হল এবং একটি ছাত্রী হল ২০১৪ সালের পূর্বে নির্মিত এবং নতুন একটি ছাত্র হল ও একটি ছাত্রী হলের কাজ ২০১৫ সালে শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪ সালে প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে।

বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০১৫ থেকে প্রতিষ্ঠিত নতুন ২০টি বিভাগের কোনো টিতেই নেই পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, ল্যাবরুম এবং সেমিনার রুমের ব্যবস্থা। বেশির ভাগ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করতে হয় নির্মাণাধীন ভবন এবং টিনশেড ক্লাসরুমে। এমনকি ক্লাসরুম সংকটের জন্য কখনো কখনো গাড়ীর গ্যারেজ ও ক্যাফেটেরিয়াতেও ক্লাস করতে হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের এমন দূরাবস্থার মধ্যেই প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার জন্য ক্যাম্পাসে আসছে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। আসন সংখ্যা বেশি হওয়ায় সাধারণত আবেদনকারীর সংখ্যাও বেশি হয়ে থাকে। সর্বশেষ ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা না থাকায় এবং গোপালগঞ্জের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় এই বিপুল পরিমাণ শিক্ষার্থীর সুষ্ঠ ভাবে পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় প্রশাসনকে। যার ফলস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজে এমনকি মাঠেও তাবু টানিয়ে পরীক্ষার নেয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব আশিকুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, ভর্তি পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা ক্যাম্পাসে নেয়ার ব্যবস্থা করি। মুলত অপরিকল্পিত ভাবে নতুন বিভাগ চালু করাতেই এই দূরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, পূর্বের উপাচার্য নিজের ইচ্ছে মতো একের পর এক বিভাগ চালু করেছেন, আমরা একাডেমিক কাউন্সিলে বার বার নিষেধ করা সত্বেও তিনি এটা একক সিদ্ধান্তে করেছেন।