১৮, নভেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র কর্তৃক শিক্ষক নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট: November 4, 2019

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র কর্তৃক শিক্ষক নির্যাতনের অভিযোগ

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলনের মুখে বিতর্কিত উপাচার্য খন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের পরে আন্দোলকারী শিক্ষার্থীদের দ্বারা বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের মানসিক, শারীরিক নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯শে অক্টোবর বিকাল ৩টায় আইন বিভাগের শিক্ষক মো: আবদুল কুদ্দুস মিয়াকে নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে।

ব্যাপক অনুসন্ধানে জানা যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ও ডিন মো: আবদুল কুদ্দুস মিয়ার অফিস কক্ষে আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হাসান আলি, মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ নাইম, মোহাম্মাদ এস এম আবদুল্লাহ কাফি, মো: সোলায়মান রাব্বিসহ ৭/৮ জন ছাত্র ২০৮ নং রুমে প্রবেশ করে রুমের দরজা-জানালা বন্ধ করে মো: আবদুল কুদ্দুস মিয়াকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এক প্রকার জিম্মি করে ডীন পদ থেকে পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পদত্যাগের আইনগত ব্যাখ্যা প্রদান করতে গেলে শিক্ষক মো: আবদুল কুদ্দুস মিয়াকে নিজ
বিভাগের ছাত্ররা মারতে উদ্যত হয়।

বিষয়টি তৎক্ষণাৎ আইন বিভাগের শিক্ষক এবং বর্তমান প্রক্টর ড. রাজিউর রহমানের মাধ্যমে স্বশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: শাহজাহানকে অবহিত করা হলে তিনি বিষয়টি শুনে দু:খ প্রকাশ করেন কিন্তু শিক্ষক নির্যাতনকারী ছাত্রদের বিচারের ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

পরে ছাত্র কতৃক নির্যাতনের স্বীকার শিক্ষক মো: আবদুল কুদ্দুস মিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা শংকা থাকায় ১০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি দাখিল করে দ্রুত ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার বরাবর বিচার দাবি করে লিখিত আবেদন করেন যার একটি কপি গননিউজ টুয়েন্টিফোরের হাতে এসে পৌছায়।

এ ব্যাপারে নির্যাতনের স্বীকার শিক্ষক মো: আবদুল কুদ্দুস মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইন বিভাগের ৭/৮ জন ছাত্র আমাকে রুমের মধ্যে আটকিয়ে জোরপুর্বক পদত্যাগে চাপ সৃষ্টিসহ মানষিক এবং শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু ঘটাতে চেয়েছিলো। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আরো বলেন ছাত্ররা আবরারকে যে ভাবে শারীরিক নির্যাতন করে মেরেছে ওরাও আমাকে সে রকম শারীরিক ও মানষিক ভাবে নির্যাতন করে মারতে চেয়েছিলো। ওরা আমার রুমের জানালা-দরজা বন্ধ করে জোর পুর্বক পদত্যাগে বাধ্য করাতে চেয়েছিলো। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রশাসনের নিকট বিচার দাবি করেছি।
এ ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষক তাদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত পুর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন গোপালগঞ্জের অভিজ্ঞ মহল।