১৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

উন্নয়নের জোয়ারে সারা দেশ ভাসলেও আমার এলাকার রাস্তায় এক ওড়া মাটি কেন পরে না? সিরাজদিখানে দুই চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বে এলাকাবাসীর ভোগান্তি

আপডেট: October 19, 2019

উন্নয়নের জোয়ারে সারা দেশ ভাসলেও  আমার এলাকার রাস্তায় এক ওড়া মাটি কেন পরে না?  সিরাজদিখানে দুই চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বে এলাকাবাসীর ভোগান্তি

মোহাম্মদ রোমান হাওলাদার, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ মোঃ ফজলুল হক ও বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম সোহরাবা হোসেনের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বন্দ্ব থাকার কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগান্তি পোহাচ্ছে ওই ইউনিয়নের কমলাপুর ও চর নিমতলা গ্রামের প্রায় ৪ হাজার মানুষ।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, কমলাপুর থেকে নিমতলা হয়ে লতব্দী পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ বেহাল অবস্থায় পরে রয়েছে। বিশেষ করে চর নিমতলা ঈদগাহের মোড় থেকে তাজির মুল্লুকের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তাটি সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকার ফলে স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্রছাত্রীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম সোহরাব হোসেন ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ওই রাস্তাটির কোন কাজ করান নি। এমনকি তিনি রাস্তাটির সংস্কারও করাননি বলেও এলাকাবাসী অভিযোগ তোলেন।

লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ মোঃ ফজলুল হক বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় কমলাপুর থেকে নিমতলা হয়ে লতব্দী পর্যন্ত রাস্তাটি নির্মাণ করি এবং পরবর্তীতে ইটের সলিং করি। গ্রামের রাস্তা কিছুদিন পর পর ভেঙে যায়। দুর্ভাগ্যের বিষয় ২০১৫ সালের নির্বাচন হওয়ার পরে আমার পরিপক্ষ সোহরাব সাহেব এই রাস্তাটির কোন কাজই করে নাই।

আমার গ্রামের প্রায় ৪ হাজার লোক এই রাস্তাটি দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু গত চারটি বছরে চার টাকার অনুদান দেয়নাই এবং এক ওড়া মাটিও তিনি ফালায় নাই। আমি অনেক কান্নাকাটি করে উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে বলে অল্প একটু যায়গা ইটের সলিং করে মেরামত করি। বাকী পুরো রাস্তাটাই ভেঙে খানাখন্দে জর্জরিত হয়ে পরে আছে। মানুষ হেটে যাওয়ার সময় পা গর্তে ঢুকে যায়। মানুষজন গাড়ী নিয়েও যাতায়ত করতে পারে না। সামান্য বৃষ্টি হলে যায়গায় যায়গায় পানি জমে কাঁদা হয়ে থাকে। আমার অত্যান্ত দুঃখ হলো এই জন্য যে, আমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রাম্যান থাকা অবস্থায় দেখেছি প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে প্রত্যেকটি এলাকায় কম বেশী কিছু বরাদ্দ থাকে। এলডিএসপির মধ্যে প্রতি বছর ৬০-৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকে।

এই বরাদ্দের একটা অংশ প্রতি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দিতে হয়। আমার এই ওয়ার্ডে গত চার বছরে এক টাকাও বরাদ্দ আসে নাই। এই ওয়ার্ডের উন্নয়ন বরাদ্দ যায় কোথায় সেটাও বুঝিনা? এই এলাকার মানুষগুলি কি অন্যায় করেছে? তাদের রাস্তাঘাট কেন নির্মাণ হয় না? আমার আবেদন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানে কাছে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের জোয়ার সারা দেশ ভাসলেও আমার এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ এবং এক ওড়া মাটি পরে না কেন? এর জবাব যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমি চাই।

নিমতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ আরজুদা বেগম বলেন, অনেকদিন যাবৎ রাস্তাটি জড়াজির্ণ অবস্থা। বাচ্চারা স্কুলে আসতে কষ্ট হয়। একটু বৃষ্টি আসলেই রাস্তাটার মাঝে পানি জমে থাকে। তখন বাচ্চাদের অন্যের বাড়ীর উপর দিয়ে আসতে হয়। অনেকে বাড়ীর উপর দিয়ে আসতে দেয় না। আমাদেরও আসা যাওয়া করতে কষ্ট হয়। বাচ্চারা স্কুলে আসার সময় গতে পরে ভিজে যায়। এই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এস.এম সোহরাব হোসেন বলেন, তিন বছরে আমি যে কাজ করেছি এই কাজগুলি দেখে বাকী যে কোন ইউনিয়নে গিয়ে আমার কাজের সাথে মিলিয়ে দেখেন। আর আগের চেয়ারম্যান সাহেব যে অভিযোগ দিয়েছে ওনার বাড়ীঘর ঐখানে, ৫ বছর চেয়ারম্যান থেকে উনি কি কাজ করেছে? একটা কাজ দেখান! আমি বিগত তিন বছরে আমার ইউনিয়নে ৫০ টা কাজ দেখাবো যে কাজগুলি আমি করেছি। ৯টা ওয়ার্ডের কাজ একসাথে করা সম্ভব না। তারপরও কমলাপুর থেকে নিমতলা ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত ৮ লক্ষ টাকার কাজ করেছি এই অর্থবছরে। এরপর ঈদগাহের পরে যে রাস্তাটুকু আছে ওই রাস্তাটুকুর জন্য ৩৫ লক্ষ্য অলরেডী বরাদ্ধের পথে। উনার নিজের বাড়ীর রাস্তা উনি করলনা কেন? ওনার নিজের গ্রামের রাস্তা আমার করে দিতে হয় এর চেয়ে লজ্জার আর কি আছে।

সিরাজদিখান উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বীন আজাদ বলেন, আমাদের কাছে ওই রাস্তাটি পূনঃ নির্মাণ বা সংস্কারের কোন আবেদন হয় নাই। তবে আমি আগামীকার সরেজমিনে গিয়ে দেখবো।