‘আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবো?’

সমগ্র বাংলা

আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের
মৃত আজাহার আলীর স্ত্রী এছনা খাতুন, বয়স ৬৫ বছর। স্বামী মারা গেছেন কত বছর হলো সঠিক হিসাব মনে নেই তার।

আনুমান করে বলেন, ১৮ বছর আগে হবে হয়তো। স্বামী মারা যাওয়ার পর এছনা খাতুন
মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বয়সের ভারে অনেক আগেই কর্মশক্তি হারিয়েছেন তিনি। তাই অনেকটা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে এই বৃদ্ধার। অথচ এখনও তার কপালে জোটেনি বয়স্ক ভাতা কিংবা বিধবা ভাতার কার্ড। বেঁচে থাকার জন্য তিনি একটি কার্ড চান।

বৃদ্ধা এছনা প্রশ্ন ‘আর কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতার কার্ড পাবো? খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য শুধু একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড চাই।’

এছনা খাতুনের বাড়ি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামে। জীবন বাঁচাতে এখনো মানুষের বাড়িতে বাড়িতে কাজ করছেন তিনি।

৬৫ বছর বয়সী এছনা খাতুনের দুই মেয়েকে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। ১৮ বছর আগে স্বামী মারা গেলেও তাঁর ভাগ্যে জোটেনি ১০ টাকার রেশন কার্ড, বিধবা ভাতা বা বয়স্ক ভাতার কোনো কার্ড। এই ১৮ বছরে অসংখ্যবার তিনি ইউপি সদস্যের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

বৃদ্ধা এছনা খাতুন বলেন, ‘মুই (আমি) খুব অসহায়। মোর কোনো জমি-জায়গা নাই।
সরকার বোলে (বলে) গরিব মানসির (মানুষের) জন্যে ১০ টাকা কেজি চাউল (চাল) দেয়, বিধবা ভাতা দেয়, বয়স্ক ভাতা দেয়। আর কত বয়স হইলে মুই (আমি) ১০ টাকার চাউল পাইমু (পাব), বিধবা ভাতা পাইমু?’

এ ব্যাপারে বাউরা ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফুলজান বেগম বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর নতুন করে রেশন কার্ড, বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা দিতে পারি নাই। আগের মেম্বার-চেয়ারম্যান যাদের দিয়েছে তারাই পাইতেছে। আমরা ওনার বিষয়ে খুবই অনুতপ্ত। আমরা কোনো কিছু পেলে তার ব্যবস্থা করব। ’

বাউরা ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মিজানুর রহমান বাবলু বলেন, ‘ওনার বিষয়টা আমার মাথায় আছে। সামনে কোনো সুযোগ-সুবিধা এলে সবার আগে তার ব্যবস্থা করব। ’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *