২২, নভেম্বর, ২০১৯, শুক্রবার | | ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

ছাত্র রাজনীতিকে না বলুন!

আপডেট: October 16, 2019

ছাত্র রাজনীতিকে না বলুন!

মেহেদী রাশেদ: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রদের, বিশেষ করে ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা সবারই জানা৷ ছাত্র রাজনীতির এই গৌরবের ধারা স্বাধীন বাংলাদেশেও ছিল৷ কারন ১৯৫২ হতে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতি এবং ছাত্র আন্দোলনের রয়েছে সোনালি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস।

ছাত্র রাজনীতির এই সময়টা আমরা পার হয়ে এসেছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব থেকে প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক ও জীবন্ত কিংবদন্তী তোফায়েল আহমেদ সহ আরও অনেকে রয়েছেন যাদের হাত ধরে যাদের কাছ থেকে দেশ অনেক কিছু পেয়েছে। ঐ সময়টায় ছাত্র আন্দোলন ও রাজনীতি ছিল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের ৷

কারন আমরা যদি শুরুর দিকটা দেখি, তাহলে দেখবো তখন শিক্ষার হার তেমন ছিল না৷ সুশীল সমাজ গড়ে ওঠেনি৷ ছাত্ররাই ছিল সমাজের আলোকিত অংশ৷ তাই তাঁরাই পথ দেখানোর চেষ্টা করেছে৷ তাঁরা পরাধীনতার বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সামাজিক সংস্কারের আন্দোলন করেছে, শিক্ষার জন্য আন্দোলন করেছেন ৷ আন্দোলন করেছেন সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ৷ তখন ছাত্র আন্দোলনে কোনো বৈষয়িক লাভের বিষয় ছিল না৷

রাজনীতি শেখার জন্য ছাত্র রাজনীতির কি দরকার??? রাজনীতি শেখার জন্য রাজনীতি সংক্রান্ত যে শিক্ষা রয়েছে তার মধ্যে জোর প্রদান করেন এবং গুরুত্ব সহকারে যেন সেটা পড়ে এবং শিখে সেই বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করেন এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব রিসার্চ সেন্টার দেওয়া হোক। যাতে আগামী প্রজন্ম সফল ভাবে নিজেদের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে।

মূলত ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ছাত্ররাজনীতির প্রয়োজন ছিলো দেশের স্বার্থে। এখন তেমনি ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা দরকার সেই দেশের স্বার্থেই । কারন ১৯৯১ সালের পর থেকে এটি ধীরে ধীরে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে পরিনত হয়েছে। কারন স্বাধীন দেশে ছাত্র রাজনীতি কেমন হবে, তা আমাদের নীতিনির্ধারকেরা অদ্যবদি ঠিক করতে পারেননি৷ সে কারণেই ছাত্র রাজনীতির এই করুণ অবস্থা।

ছাত্রদল, ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবির সবাইকে দেখেছি। সময়ের পরিক্রমায় এরা কতটা নৃশংস ও অমানবিক হয়ে উঠে ক্ষমতায় মত্ত হয়ে উঠে। এমন হীণ কাজ নেই যা তারা করছেনা। হারিয়ে যাওয়া ছাত্র রাজনীতির সর্বোচ্চ হাতিয়ার ছিল লেখা পড়া, বই খাতা, কাগজ কলম, লাঠি বিড়ি।

আর এখনকার ছাত্র রাজনীতির হাতিয়ার হলো, মদ,গাঁজা, চাদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ভাড়ায় শক্তি প্রদর্শন, মাদক বাণিজ্য, কাটা রাইফেল, জার্মানির এম ২ রিভালবার, সর্বশেষ যদি সম্ভব হয় তাহলে কিছুটা লেখাপড়া শুধু মাত্র ছাত্রত্ব ধরে রাখার জন্য। তাই যে এই সংগঠন গুলো এদের সাপোর্ট করবে বুঝতে হবে সেই সংগঠন বা ব্যক্তি হচ্ছে এই সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক। তাদের ক্ষমতার হাতিয়ার।

বর্তমান ছাত্র রাজনীতি মেধাশূন্য করার অভিলাষে হচ্ছে। ভাল কোনও মেধা সম্পূর্ণ ছাত্র রাজনীতির মাঠে কোনও অবস্থান তৈরি করতে পারে না। যারা বর্তমান ছাত্র রাজনীতির নেতৃতে রয়েছে, তাদের প্রথমেই হতে হবে অপেক্ষাকৃত কম মেধা শূণ্য, হতে হবে ভাল চামচা বাজ, থাকতে হবে পেশী শক্তি ও অস্ত্রের ভাল মজুত না হলে কখনো নেতা হতে পারবে না। এই সব হলো উপরের নেতার ইচ্ছা।

উন্নত বিশ্বের কোথাও ছাত্ররাজনীতি নেই কিন্তু still সেইসব দেশ গুলোতে অনেক বড় বড় রাজনীতিবীদ এর জন্ম হয়েছে এবং হচ্ছে। বাংলাদেশেও ছাত্র রাজনীতি না থাকলে অনেক বড় বড় নেতা সৃষ্টি হবে বলে আমি আশাবাদী।

আদতে সকল ছাত্ররা প্রতিষ্ঠানে যায় জ্ঞান আহরন করার জন্য, এই জন্য প্রয়োজন অধ্যয়ন করার উপযুক্ত পরিবেশ। তাই সকল ছাত্রদের কল্যানের লক্ষ্যে একটি সংঘটন করা উচিত যাতে সবাই অন্তর্ভুক্ত হবে এবং ছাত্রদের পক্ষ থেকে গঠনমূলক আবেদনের জন্য একজন স্পীকার থাকবে। এর বাইরে কোন রাজনীতির প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। কারন ছাত্র রাজনীতি হতে হবে স্বাধীন৷

তারা কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করবে না৷ তারা ছাত্রদের নিয়ে কাজ করবে৷ এরাইবজাতির প্রয়োজনে মাঠে থাকবে৷ কারন আমার মতে রাজনীতি একটা সূদুরপ্রসারী পেশা , তার জন্য যথেষ্ট সামাজিক অবদানের প্রয়োজন আছে এবং যথেষ্ট অভিজ্ঞতার আলোকে পরিনত মানুষ রাজনীতি করে। কোনভাবেই ছাত্রদের সাথে রাজনীতি মিলাতে পারছি না ।

আমি চাই এই অশুভ ছাত্র রাজনীতি অচিরেই বন্ধ হোক। না হলে দেশ ভরে যাবে গাধা টাইপের বলদ দিয়ে। যারা দলীয় ছায়ায় কর্মস্থলেও সদর্পে দুর্নীতি করে যাবে।

আমি কি গলা ফাটিয়ে বলতে পারি না ছাত্র রাজনীতি নিপাত যাক?

তো আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা কী আমাদের দেশের ছাত্র রাজনীতিটা কে বন্ধ করার মত চিন্তা ভাবনা গ্রহণ করার মত মন মানসিকতা তৈরি করতে পারে না ?

পারে না আমাদের ছেলে দের উজ্জল ভবিষ্যতের চিন্তা করতে ?

মনে হয় তা করবে না। কেন না আমাদের বর্তমান ও অতীত ক্ষমতাসীন বড় দুই দলের ততীব্র আপত্তি রয়েছে। কারণ মাগনা ক্যাডার হাতছাড়া হয়ে যাবে সেই ভয়ে। হুকুম দিলে কাজ হয়ে যায়। পরিকল্পনা দিতে হয় না এমনিতে হয়ে যায়।

পরিশেষে বলতে চাই আবারো
ছাত্র রাজনীতি চাই না। যা হওয়ার তা হয়েছে আর দরকার নেই। এই বার মুক্তি চাই।