হত্যার আগে মানসিক নির্যাতনও করা হয় নুসরাতকে

জাতীয়

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসারছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার আগেই তাকে মানসিকভাবে মেরে ফেলা হয়েছিল। শুধু তাই নয় গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের বিচার চাইতে গিয়ে মানসিক নির্যাতনের শিকার হয় নুসরাতের পরিবার ও সহপাঠীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, সে সময়ের থানার ওসি মোয়াজেম হোসেন শুধু নুসরাতই নয়, তার দুই বান্ধবীরও ভিডিও বক্তব্য ধারণে বাধ্য করেন। পরিবারের দাবি, পুলিশ দোষীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষিণক ব্যবস্থা নিলে নুসরাতের এমন বেদনাদায়ক বিদায় হতো না।

গত ২৭ মার্চ সকালে নুসরাত ক্লাসে বসে সহপাঠীদের সাথে গল্প করছিল। এ সময় মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন এসে অধ্যক্ষ ডাকছেন বলে নুসরাতকে জানায়। নুসরাত তার দুই বান্ধবীকে নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে যায়। অধ্যক্ষ সিরাজ বান্ধবীদের কক্ষের বাইরে বের করে দেয়। বন্ধ কক্ষ থেকে ১০ মিনিট পর কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে বাড়ি চলে যায় নুসরাত। বিষয়টি তার মা জানার পর স্থানীয় কাউন্সিলর ইয়াসিন, ছেলে রায়হানকে নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে যান। এ সময় অধ্যক্ষ সিরাজ তাকে গালমন্দ করে নুসরাতের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। বাদানুবাদের এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমিনকে ফোন করলে তিনি পুলিশ নিয়ে আসেন। পরিবার ও সহপাঠীদের দাবি, অধ্যক্ষ ও রুহুল আমিন তাদেরকেও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছে।

নুসরাতের সহপাঠী জানান, আগে থেকে জানি (অধ্যক্ষ) ওনার স্বভাব চরিত্র খারাপ। আমরা ওর সাথে (নুসরাত) গিয়েছিলাম। ও অফিসের ভিতরে যায় এবং ১০ মিনিট ছিল। আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকি। এরপর সে অফিস থেকে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে আসে।

নুসরাতে বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল এসএম সিরাজদদ্দৌলা আমরা মায়ের সাথে গালিগালাজ করেছিলেন। সে সময়ে মাদরাসার গর্ভনিং বডিংয়ের সহসভাপতি উপস্থিত ছিলেন। উনি থাকা অবস্থায় কিভাবে অধ্যক্ষ এমন আচরণ করতে পারে?

এদিকে নুসরাতের ছোট ভাইয়ের দাবি, ব্যবস্থাপনা কমিটি বিচারের দ্রুত পদক্ষেপ নিলে, তার বোনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু হতো না। নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদ রায়হান বলেন, তাৎক্ষণিভাবে যদি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন। তাহলে আমার বোনের এমন মৃত্যু হতো না।

ওইদিন দুপুরে নুসরাত, তার মা ও দুই সহপাঠীকে থানায় ডেকে নিয়ে যান সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় নুসরাত ও তার দুই সহপাঠী অস্বীকৃতি জানালেও নেকাব খুলে তাদের ভিডিওতে বক্তব্য ধারণে বাধ্য করেন ওসি।

ওই দিনে নুসরাতের মায়ের দায়ের করা মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেফতার করা হয়। আর ৬ এপ্রিল নুসরাতের শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। দীর্ঘ ৫ দিন বাঁচার জন্য লড়াই করে ১০ মার্চ ঢাকা মেডিকেলে মারা যায় প্রতিবাদের প্রতীক নুসরাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *