পরিবহনের আড়ালে ইয়াবা পাচার : মামলা থেকে বাদ যেতে দিলুর মোটা অংকের মিশন!

অপরাধ ও দুর্নীতি

বিশেষ প্রতিবেদক: দেশ ব্যাপী সরকারের মাদক বিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ার পর থেকে ইয়াবা কারবারীরা আত্বগুপনে থেকে কৌশলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভয়ংকর ভাবে সেক্রেটারী নূরুল আলম, আলমগীর, আব্দুল আজিজ, মোহাম্মদ আমিন, ইয়াছিন, জসিম (কাপড় সওদাগর), হাসান ড্রাইভারসহ কয়েকটি সিন্ডিকেট পরিবহন ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা পাচার করে তালিকার বাহিরে থেকে গেছে। এদের মধ্যে মামলার পরোয়ানা মাথায় নিয়েও প্রশাসনের নাকের ডগায় সুফি বেশে ঘুরা ফেরা করছে কথিত পরিবহন মালিক নামধারী দিলু ড্রাইভার ও তার সিন্ডিকেটের অপর সদস্যরা। সম্প্রতি চট্টগ্রামে মাদক মামলা থেকে বাদ পড়তে মোটা অংকের মিশনে নেমেছে এমনটি অভিযোগ উঠেছে দিলু ড্রাইভারের বিরুদ্ধে।

এবিষয়ে টেকনাফ মডেল থানা ওসি (তদন্ত) এস এম দোহা জানান, স্থানীদের সহযোগীতার অভাবে অনেক তথ্য পাওয়া যায়না। সংবাদ কর্মীদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এসব ছদ্মবেশী ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, টেকনাফ পৌরসভার পুরাতন পল্লানপাড়ার দিলুর পুত্র আব্দুল আজিজ উরফে আব্দুইয়া শুরুর দিকে তার চাচতো ভাই মিলে সিন্ডিকেট করে ইয়াবা ব্যবসা গড়ে তুলে। পরবর্তীতে তার বন্ধু একই এলাকার ক্রেটারী নূরুল আলম মিলে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী লেগুনা, স্পেশাল সার্ভিস নামে মিনিবাসের যোগানে করে এসব মাদক চালান পাচারের কাজে সহায়তা করে পিতা দিলু ড্রাইভার। মাদকের চালান কক্সবাজার দিলু ড্রাইভারের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় মজুদ করা হতো। এভাবে কয়েক বছর যেতে না যেতেই দিলু ড্রাইভারী পেশা ছেড়ে দিয়ে দুটি মিনি বাস, দুটি দূর পাল্লার বাস, পরিবারের অপর সদস্যদের নামে নূরুল আলম সহ মিলিয়ে চারটি লেগুনা, কায়ুকখালী পাড়ায় জমিসহ পাকা দ্বিতল দালান বাড়ি, পুরাতন পল্লানপাড়া এলাকায় কয়েক কানি জমি সহ নামে বেনামে বেশ কিছু সম্পত্তির মালিক হয়ে রাতা রাতি দিলু কোম্পানী বনে যায়। এই বিষয়ে জানতে দিলুর মোবাইলে অসংখ্যবার চেষ্টা করেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, তার মালিকানাধীন (ঢাকা মেট্রো ব ১১-০০৬৬), (ফেনী ব ১১-০০৬৬) নামে শাহ আমিন ও ইউনিক বাস দুটি থেকে সপ্তাহ ব্যবধানে চলতি বছর ইয়াবার চালান আটক করা হয়েছে। এদিকে চাদগাঁও থানা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত ২১ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বহদ্দার হাট টার্মিনাল থেকে দিলু’র মালিকানাধীন শাহ আমিন বাস থেকে ১ হাজার পিস ইয়াবা সহ চালক মনির কে আটক করে। সে সময় অপর সহযোগী পুতু ড্রাইভার পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আটককৃত ইয়াবার মালিক দিলু ড্রাইভার বলে জানিয়েছে নির্ভর‍যোগ্য সূত্র। এ ঘটনায় চাঁদগাও থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের হয়েছে, যার মামলা নং (জি আর/৩৭)। উক্ত মামলায় দিলু ড্রাইভার ও একই এলাকার পুতু ড্রাইভার এবং লোহাগাড়ার মনির ড্রাইভার সহ মোট তিন জনকে আসামী আসামী করা হয়েছে। এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো ব ১১-০০৬৬ শাহ আমিন গাড়ীটি থানা হেফাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছে চাঁদগাও থানা পুলিশ।

এদিকে গোপন সূত্রে জানা গেছে, উক্ত মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে দিলু ড্রাইভার মোটা অংকের মিশনে নেমেছে। এছাড়াও মামলার পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ওপেন সিক্রেট চলাফেরা করছে এই মাদক কারবারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *