১৮, নভেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

কারাগারে বিএনপি নেতার মৃত্যু, চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ স্ত্রীর

আপডেট: April 12, 2019

কারাগারে বিএনপি নেতার মৃত্যু, চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ স্ত্রীর

কুষ্টিয়ার কারাগারে জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সভাপতি এসএম শামীম আরজু মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ৩টায় কারারক্ষীরা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শামীম আরজুর স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শামীম আরজুকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসাপত্র দেওয়া হয়। এরপর কারারক্ষীরা তাকে নিয়ে চলে যান। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জরুরি বিভাগে এই রোগীকে নিয়ে আসলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী হাছিনা বানুর অভিযোগ, আরজু আগে থেকেই হৃদ্‌রোগ জটিলতায় ভুগছিলেন। বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিতও করা হয়েছিল। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চিপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করীমের আদালতে আবেদন করলে আদালত তা আমলে নেন এবং তাৎক্ষণিক আরজুর চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ কারাগারে প্রেরণ করেন।

‘তা সত্ত্বেও কারা কর্তৃপক্ষ সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় তার মৃত্যু হয়েছে’।

নিহতের স্ত্রী হাছিনা বানুর অভিযোগ বিষয়ে জেল সুপার জাকের হোসেন বলেন, ‘পরিবারের কারো মৃত্যু হলে কত রকম কথাই তো বলে থাকেন। অসুস্থ হাজতি শামীম আরজুর চিকিৎসায় কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মতেই তাকে কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে আবার বেশি অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছিল’।

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দেওয়ার সময় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সাংসদ সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ সোহরাব উদ্দিন এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম আরজুসহ নেতাকর্মীদের আটক করে মডেল থানা পুলিশ।

পরে পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজের বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত সব নেতাকর্মীদের কারাগারে প্রেরণ করেন। সেই থেকে দীর্ঘ ১৬ দিন ধরে হাজতবাসী ছিলেন নিহত এই বিএনপি নেতা এসএম শামীম আরজু।