২১, নভেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া সেই নারী আটক!

আপডেট: April 16, 2019

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া সেই নারী আটক!

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া নারী সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। এই নারীর নাম কামরুন নাহার মনি। সে নুসরাতের সহপাঠী ও ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে মনিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে আটক করা হয়।

ফেনী পিবিআই’র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া সেই নারী সন্দেহে ওই ছাত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি নূরউদ্দিন রবিবার রাতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছিল, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী উম্মে সুলতানা পপি গিয়ে নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায়। ওই সময় ছাদে কামরুন নাহার মনি ছিল।

মনিসহ নুসরাত হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। এদের মধ্যে এজাহারভুক্ত সাতজন, বাকিরা সন্দেহভাজন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র ফেনী অফিসের পরিদর্শক শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ১৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি সিরাজ উদ্দৌলাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সে সাতদিনের রিমান্ড আদেশপ্রাপ্ত। ২ নম্বর আসামি নূরউদ্দিন (২০) ও তিন নম্বর আসামি শাহদাত হোসেন শামীম (২১) রবিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। চার নম্বর আসামি পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মাকসুদ আলমকে (৪৫) সোমবার পাঁচদিনের রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ নম্বর আসামি জাবেদ হোসেনকে (১৯) সাতদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। ছয় নম্বর আসামি মাদ্রাসার ইংরেজি বিষয়ের অধ্যাপক আফছার উদ্দিন (৩৫) ও সাত নম্বর আসামি আলাউদ্দিন (৩০)।

তিনি আরও জানান, এছাড়া কেফায়েত উল্লাহ (৩২), নুসরাতের সহপাঠী ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষের ভাগ্নি উম্মে সুলতানা পপি ওরফে শম্পা (১৮), মাদ্রাসাছাত্র নূরউদ্দিন (১৯), নূর হোসেন (২১), শহীদুল ইসলাম (১৯), জোবায়ের আহমেদ (২১) ও আরিফুর ইসলাম (১৯) পাঁচদিন করে রিমান্ডের আদেশ পেয়ে কারাগারে আছে।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে তাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।