ওসির অনুরোধে নুসরাতকে নিয়ে এমন স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাংবাদিক

জাতীয়

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে আগুন দেয়ার পরপরই ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এই অপপ্রচারটি ছিলো কিলিং মিশনের অংশ। এমন অভিযোগ নুসরাতের পরিবারসহ সোনাগাজীবাসীর। তবে ফেসবুকে সমালোচিত পোস্টদাতা স্থানীয় সংবাদকর্মীর দাবি সাবেক ওসির কথায় তিনি ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। কয়েকজন তাঁকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত।

৬ এপ্রিলের ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যে সোনাগাজী উপজেলার দৈনিক সমকাল পত্রিকার প্রতিনিধি আবুল হোসেন রিপনের ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেয়া হয়। তাতে বলা হয়- মাদ্রাসার ছাদে উঠে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় নুসরাত। এই পোস্টটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনা নিয়ে তৈরি করা হয় বিভ্রান্তি।

রোববার (১৪ এপ্রিল) নুসরাত হত্যা মামলার আসামী নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের আদালতে স্বীকারোক্তির পর নিশ্চিত হওয়া যায় পরিকল্পিতভাবেই এটা করা হয়।

এলাকাবাসী বলেন, এ ঘটনাটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। এ ঘটনায় পরিপূর্ণ তদন্তের আবেদন জানাচ্ছি।ক্যামেরার সামনে আসতে না চাইলেও মোবাইল ফোনে স্ট্যাটাসদাতা সেই স্থানীয় সংবাদকর্মী জানান, সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের অনুরোধে তিনি আত্মহত্যার স্ট্যাটাস দেন।

সোনাগাজীর দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি আবুল হোসেন রিপন বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমি ওসি মোয়াজ্জেমকে ফোন করে বিস্তারিত জানতে চাই। তিনি আমাকে বলেন ঘটনাস্থলে তারা টিম পাঠিয়েছেন। হয়তো মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। তাই আমি এ স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলাম।

এর আগে ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *