স্বরূপকাঠীতে মাহমুদকাঠীবাসীর জনভোগান্তি চরমে

সমগ্র বাংলা


পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ
নানা সমস্যায় ভুগছে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীর আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের বাসিন্দারা। স্থানীয় মাহমুদকাঠী ৮নং ওয়ার্ড ঘুরে এলাকাবাসীর নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। জনভোগান্তির সবচেয়ে চরম অবস্তায় রয়েছে স্কুলগামী হাজারো শিক্ষার্থী। একটু বৃষ্টি হলেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে স্কুলে যাওয়ার কাঁচা ও স্যাঁতস্যাতে ইটের রাস্তাগুলো।

এ অভিযোগের সাথে অনেকটা সহমত পোষণ করেছেন ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুহিদ মাহমুদ। তিনি জানান, ওয়ার্ডবাসীকে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে সেবা করার পরিকল্পনা করেছি। তবে কিছু কিছু কাজ জনগণকে উপহার দিতে পারলেও আমার এলাকার আরও ১০ টি লোহার পুল নির্মান করা ও ১৫ টি টিউবওয়েল স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এছাড়াও কাঁচা রাস্তায় যোগাযোগ করা জনগণের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, তাই একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিয়মিত অভিযোগ আমার কাছে আসছে। জনগণের এসব অভিযোগ দূরীকরণ ও যোগাযোগ সুবিধার জন্য মাহমুদকাঠি বাজার হতে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে দিয়ে হরিহরকাঠি মোহাম্মদিয়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা, ৩৬ নং (২) মাহমুদকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হইতে সাইক্লোন শেল্টার পর্যন্ত সি সি ঢালাই, শামসু আঁকনের বাসা হতে মুক্তিযোদ্ধা সুশীল বড়ালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা, বাশবাড়ি বাইতুল আমান জামে মসজিদ থেকে হাজী সালেকের বাসার সামনে পর্যন্ত রাস্তা, খলিফা বাড়ির সামনে দিয়ে আরামকাঠী পর্যন্ত রাস্তা, হাজী মোহাম্মদ সিদ্দিক এর বাসার সামনে দিয়ে মৃত হাজী সৈয়দ মোল্লার বাড়ির সামনে পর্যন্ত রাস্তা, ৩৬নং(২) আরামকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মো. সজিব এর বাসার সামনে পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ এখন সময়ের দাবী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও মোহাম্মদ আজাহার মিয়ার বাড়ী হতে সত্তার মেম্বারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা, বজলু ক্বারীর বাসার সামনে হতে মোহাম্মদ কবির এর বাসার সামনে পর্যন্ত রাস্তা, পূর্ব মাহমুদকাঠী হাবিব হাজী বাড়ি মসজিদ হইতে মোঃ মোশারফ মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা হলে চলাচলের স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে বলে দাবি করেন ৮নং ওয়ার্ডের এ ইউপি সদস্য।

 তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে দুইটি আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দুটি আশ্রয়হীন পরিবারকে বসতঘর হস্তান্তর করেছেন তবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে আরও দশটি ঘর পাওয়া গেলে আশ্রয়হীন ও সুবিধাবঞ্চিত লোকদেরকে সহযোগীতা করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সড়কের পাশে দুইটি স্ট্রীট লাইট পেয়ে স্থানীয়রা অনেক উপকৃত হয়েছেন তবে বিভিন্ন জায়গায় আরও দশটি স্ট্রীট লাইট স্থাপন করা হলে বয়স্কদের চলাচলে সুবিধা সহ মাদক নির্মূলে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন। এছাড়াও স্বরূপকাঠী থেকে মাহামুদকাঠী ও কুড়িয়ানার উপর দিয়ে আটঘর প্রর্যন্ত রাস্তাটি দ্রুত বাস্তবায়ন চান ইউপি সদস্য মুহিদ মাহামুদ।স্থানীয়রা জানান, আমাদের এলাকার রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রায় জায়গা থেকেই রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। বৃষ্টির সময় আমাদের চলাচলে অনেক সমস্যা হয় এমনকি স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও বিপদে পড়ে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, আমরা এখানকার সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়। চেয়ারম্যান হিন্দু তাই তিনি হিন্দুদের এলাকায় বেশী কাজ করেন।  এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুহিদ মাহামুদ। ২১০০ ভোটারের এই ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মোট ৭ লক্ষ টাকা বাজেটের দুইটি কালভার্ট ও ৩টি ঘাটলার কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং একটি ঘাটলার কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৬টি পুল সংস্কার বাবদ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে, টিআর কাবিখা প্রকল্পে ১,৫০,০০০ টাকা, ৪০ দিনের প্রকল্প ৬লাখ , ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের উপজেলা বাজেটের ৬০০ ফুট রাস্তার ইট সলিং, এডিবি থেকে একটি ঘাটলা ও একটি পুল নিমার্ণ চলমান, ইতোমধ্যে প্রতিটি ৮,০০০ টাকা মূল্যের পাঁচটি টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে, দুটি লোহার পুল, জেলা পরিষদ থেকে পাওয়া অনুদানের মাধ্যমে দুইটি মসজিদে দুই লক্ষ টাকা প্রদান, দুইটি মসজিদের জন্য দুইটি ঘাটলা তৈরি করা হয়েছে যার মধ্যে একটি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে, বিভিন্ন জায়গায় ইট সলিং (মন্ত্রী কোঠায় কিছু, এডিপিতে কিছু), এছাড়াও মসজিদে আরো ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি সাঁকো ও পুল সংস্কার করেছেন এবং প্রতিবন্ধীভাতা, বয়স্কভাতা ও বিধবাভাতা বাবদ মোট ৮০ জনকে সাহায্য প্রদান করেছেন বলে জানান।এ ব্যাপারে আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুহিদ মাহামুদ জানান, আমার ওয়ার্ডে দুঃখ দুর্দশা বেশি।

বিশুদ্ধ পানির ক্ষেত্রে টিউবওয়েলের সমস্যায় আছি, এখানে পুল কালভার্ট নাই বললেই চলে। আমার তিন বছরের দায়িত্বপালন কালে আমার চেয়ারম্যান মহোদয় ও উর্ধ্বত্মন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতায় কিছু কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং কিছু কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমার এলাকায় আরও কিছু পুল, কালভার্ট ও টিউবওয়েল খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। পিরোজপুর-১ আসনের এমপি ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম স্যার আমার ওয়ার্ড দেখভাল করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন, তিনি আমাদের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করবেন বলে আমি আশা করি।

আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার বলেন, অনেক কাজ করেছি। বহু পদক্ষদেপ নিয়েছি, সমস্ত রাস্তা মন্ত্রী ও এ্যানি রহমানের কাছে দিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *