জনপ্রিয়তার প্রতিহিংসায় ষড়যন্ত্রের কারাগারে সাবেক ভোলা জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি- মোস্তাক শাহিন

সমগ্র বাংলা

বিশেষ প্রতিনিধি: ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক ভোলার তুমুল জনপ্রিয় নেতা, নন্দিত লেখক,কবি ও সাহিত্যিক, মোস্তাক আহম্মেদ শাহিন ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন।ভোলার তৃনমুল রাজনীতির ইতিহাসে এ জনপ্রিয় নেতা আ’লীগ রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকাকালীন ভোলার অভ্যন্তরীন রাজনীতির বলি হয়ে বারবার তাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করায় আ’লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের হৃদয়ে গভীর বেদনার সৃষ্টি করেছে। আ’লীগ নেতা কর্মীরা বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

ভোলার সদর উপজেলা সহ বিভিন্ন উপজেলার আ’লীগের নেতা কর্মীদের সুত্রে জানা যায়, ভোলার আওয়ামী রাজনীতির ইতিহাসে তৃনমুলের আ’লীগের নেতাকর্মীদের নিকট মোস্তাক শাহিনের মত এত জনপ্রিয়তা কেউ কখনো অর্জন করতে পারেনি। এই জনপ্রিয়তাই ভোলার অভ্যন্তরীন রাজনীতির প্রতিপক্ষের নিকট তার জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। জীবনের সোনালী অধ্যায় বিসর্জন দিয়ে এমএ ডিগ্রীধারী শাহিন বঙ্গবন্ধুর প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া পিতা মুজিবের আদর্শে উজ্জীবিত রাস্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা এক সংগ্রামী প্রতিবাদী সৈনিক।ভোলার রাজনীতির ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৎ নীতিবান দলীয় চেতনাধারী এমন বজ্রকন্ঠের কোন প্রতিবাদী আ’লীগ কর্মীকে কখনো দেখেনি ভোলার মানুষ।কৈশোর জীবন হতে মুজিবের আদর্শের পথ ধরে চলা রাজনীতির সংগ্রামমুখর দিনগুলো হতে যার আদর্শে আজও কিঞ্চিৎ শুন্যতা সৃষ্টি হয়নি।আ’লীগের রাজনৈতিক সংকটকালীন সময়ে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে রাজপথে ঘায়েল করতে জীবন বাজিঁ রেখে কৈশোর জীবনের স্কুল কলেজ হতে মোস্তাক শাহিনের রাজনৈতিক সুচনা শুরু। ৯০ এর স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলন ও ১/১১এ রাস্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনেও যিনি ছিলেন ভোলার রাজপথে সরব। ১/১১ এ জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।

২০০১ ইং সালে বিএনপি জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আ’লীগের কঠিন দুঃসময়ে জেলা ছাত্রলীগের হাল ধরেন মোস্তাক শাহিন। টানা ৯ বছর জেলা ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট হিসেবে সফলতার সাথে বীরদর্পে রাজপথে তীব্র হুংকার দিয়েই দায়িত্ব পালন করে ভোলার উত্তর হতে দক্ষিন প্রান্ত পর্যন্ত ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতা কর্মীদের নিকট আইডল হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ২০০১ পরবর্তী ৩৮ টি মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে রাতের আধাঁরে পুলিশের ভয়ে,পাতা বনে,পানের বরজে, বাগানে, নদী ও খালের পাড়ের টংয়ে ,বিলে, লুকিয়ে দলকে তৃনমুলে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করেন।

৩৮ টি মামলার হুলিয়া নিয়ে একাধিকবার কারাবরন করেন। মোস্তাক শাহিনদের রক্ত,ঘাম ত্যাগেই আজকের ভোলার সুসংগঠিত আ’লীগ। ২০০৮ ইং সালে আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর আত্নীয় ও স্বজনপ্রীতির ভিড়ে ও স্থানীয় নেতৃত্বের আধিপত্য,অভ্যন্তরীন কোন্দলে মোস্তাক শাহিন হারিয়ে যায়। বিগত টানা তিন মেয়াদে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এ পরিক্ষীত সৈনিক স্বজনপ্রীতির ভিড়ে নিপীড়ক, দুর্নীতিবাজ,সুযোগসন্ধানী নেতৃত্বের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার।আ’লীগের বিগত মেয়াদে ২০১৮ ইং সালে তাকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলায় ও পাশ্ববর্তী উপজেলার ডাকাতি মামলায় আটক করলে তিনি কয়েক মাস কারাবরন করেন। সর্বশেষ ৯ ই এপ্রিল সকাল ১০টায় মৃত মানুষের জানাযা নামাজ পড়তে গিয়ে সাজানো মাদক মামলায় তাকে আটক করা হয়। যা ভোলার আ’লীগ নেতা কর্মী নয়, দল মতের উদ্ধে কোন সাধারন মানুষও এটা মেনে নিতে পারেনি। মুজিব অন্তঃপ্রান সৎ আদর্শিক নীতিবান রনাঙ্গনের এ খাটি আদর্শের সৈনিককে ঘায়েল করতে নিজেদের অনুসারী পুলিশ প্রশাসন দিয়ে এহেন জঘন্যতন ঘটনা ভোলার আ’লীগ নয় সর্বস্তরের জনগনের নিকট নিন্দিত করেছে। অনলাইনে সব সময় দল ও নেত্রীর পক্ষে ভুমিকা পালনকারী এ আপোষহীন মুজিব সৈনিক সর্বশেষও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি স্টেটাস দিয়ে গ্রেপ্তার হন।

তার মত সৎ রাজপথের নিবেদিতপ্রান মুজিব রনাঙ্গনের আপোষহীন সংগ্রামী যোদ্ধাকে এমন ঘৃন্য সাজাঁনো মাদক মামলায় গেফতার করায় সকলের বিবেক কে নাড়া দিয়েছে। এতে ইতিহাসের ঘৃন্যতম পাতায় ষড়যন্ত্রকারীরাই স্থান নেয়নি, কলঙ্কিত করেছে আ’লীগ ও মুজিব আদর্শের এক আপোষহীন সৈনিককে।মোস্তাক শাহিন মাদক ব্যবসা করে তা কোন সুস্থ বিবেক বোধ সম্পন্ন মানুষ নয়, তাকে চিনে কোন মানসিক বিকারগ্রস্ত পাগলেও এটা বিশ্বাষ করবেনা।

মোস্তাক শাহিনের ঘামে ঝড়ানো, কষ্ট, ত্যাগ, কারাগারের অন্ধকার কক্ষে হাজতবাস, ৩৮ টি মামলার হুলিয়া নিয়ে মাসের পর মাস পালিয়ে থেকে দলে নেতৃত্ব দেওয়াই ভোলার আ’লীগ কে জীবন্ত রেখেছে। আজ আ’লীগ তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আসলেও দলীয় কোন সুযোগ সুবিধা দুরের কথা, তাকে দলীয় পদ পদবী হতেই বঞ্চিত করে একের পর এক,অস্ত্র, বিস্ফোরক,ডাকাতি,মাদকের মত ঘৃৃন্য সাজানো মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে ভোলার আ’লীগের নীতি নির্ধারকরা। ভোলার আ’লীগের নেতা কর্মীরা মোস্তাক শাহিনের নিঃশর্ত মুক্তি ও তাকে যথাযথ মুল্যায়ন করতে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *