১৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

অপারেশনের জন্য ইনজেকশন দিলেন চিকিৎসক, মারা গেলেন অন্তঃসত্ত্বা

আপডেট: June 11, 2019

অপারেশনের জন্য ইনজেকশন দিলেন চিকিৎসক, মারা গেলেন অন্তঃসত্ত্বা

অপারেশন থিয়েটারে সিজারিয়ানের জন্য অন্তঃসত্ত্বা নারীকে অজ্ঞানের ইনজেকশন দিলেন চিকিৎসক। এর কিছুক্ষণ পরই মারা গেলেন ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেয়া হলে হাসপাতালের বিপণন কর্মী শামসুন্নাহারকে আটক করে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে সাভার থানা স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত পলাশ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ওই নারীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম তানিয়া খাতুন (২০)। স্বামী আজিজুল হাকিমের সঙ্গে আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ি এলাকার সাত্তারের বাড়ি ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখাায় কাজ করতেন তিনি।

আটক শামসুন্নাহার মাদারীপুর সদর থানার পাঁচখোলা গ্রামের গোলাম হোসেনের স্ত্রী। তিনি বেসরকারি এনজিও ব্র্যাকের স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে চাকরির পাশাপাশি পলাশ হাসপাতালে রোগী সরবরাহ করতেন।

পলাশ হাসপাতালের সিনিয়র নার্স রুবি খানম বলেন, সোমবার দুপুরে তানিয়া নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী প্রসব ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এ সময় আমরা তার ফিটনেস ও যাবতীয় পরীক্ষা করে অপারেশন থিয়েটারে পাঠাই। সেখানে হাসপাতালের মালিক এবং সার্জন ডা. সৈয়দ মোকাররম হোসেন পলাশের উপস্থিতিতে চিকিৎসক টিটু তাকে অজ্ঞান করার জন্য ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর ধীরে ধীরে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।

নিহতের স্বামী আজিজুল হাকিম বলেন, সুস্থ অবস্থায় আমার স্ত্রীকে পলাশ হাসপাতালে নিয়ে যাই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার অনুপস্থিতিতে তানিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ইনজেকশন পুশ করেন ডা. টিটু। একপর্যায়ে আমার স্ত্রী নিস্তেজ হয়ে যায়। এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে আমাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু ঢামেকে আনার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তানিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা বলেন, ঢামেকে আনার আগেই তানিয়ার মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে পলাশ হাসপাতালের মালিক ডা. সৈয়দ মোকাররম হোসেন পলাশ বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীর সিজারিয়ানের জন্য আমরা অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাই। এ সময় তাকে অজ্ঞানের ইনজেকশন পুশ করা হলে অবস্থার অবনতি ঘটে। আমরা তাকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টা করেছি। প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিয়ে তাকে ঢামেকে পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমজাদুল হক বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর খবরটি শুনেছি। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাহবাগ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে শামসুন্নাহার নামে পলাশ হাসপাতালের এক নারীকর্মীকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে সাভার মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

-এইচএ/পিএন/এসএস