প্রবাসীর স্ত্রীকে অর্ধনগ্ন করে লাঠিপেটাও নির্যাতন

সমগ্র বাংলা

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় দুই মেয়ের সামনে প্রকাশ্যে প্রবাসীর স্ত্রীকে অর্ধনগ্ন করে লাঠিপেটা ও নির্যাতন করা হয়েছে। সেই নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

প্রবাসীর স্ত্রীকে লাঠিপেটাকারী ওই ব্যক্তি একই ইউপির উজানপাড়া গ্রামের সরল খানের ছেলে মোলাইম খান।

১৩ মে উপজেলার বরমচাল ইউপির উজানপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার ওই প্রবাসীর স্ত্রী তিন কন্যার জননী। বাড়িতে ওই নারী তার দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন।

সোমবার দুপুরে প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে আনেন মোলাইম। পরে ওই নারীর দুই মেয়ের সামনে অর্ধনগ্ন করে প্রকাশ্যে বেধড়ক লাঠিপেটা করেন।

এদিকে মোলাইম খান ওই নারীকে নিজের বিবাহিত স্ত্রী দাবি করছেন এবং স্ত্রীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে তাকে মারধর করেছেন বলে দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বলেন, আমার শ্বশুর-শাশুড়ি মারা গেছেন। ভাশুর অন্যত্র থাকেন। আমার স্বামী ওমান প্রবাসী এবং আমার তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আমার দুই মেয়েকে নিয়ে একা বাড়িতে থাকি।

তিনি আরো বলেন, আমার চাচাশ্বশুরের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে কোর্টে মামলা রয়েছে। মোলাইম খান আমার দূরসম্পর্কের আত্মীয়। চাচা শ্বশুরের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেই তাকে। মামলা পরিচালনার জন্য ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ একই তারিখের কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্প কাগজে স্বাক্ষর নিতে আসেন মোলাইম।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজে দস্তখত দিতে হবে। সরল বিশ্বাসে সেই সাদা স্ট্যাম্প কাগজে দস্তখত দেই। কিছুদিন পর মোলাইম আমার স্বামীর কাছে মোবাইলের হোয়াটস্অ্যাপে স্বামীকে তালাকের হলফনামার এবং কোর্টম্যারেজের কাগজের ছবি পাঠান। স্বামী বিদেশ থেকে ওই হলফনামা কাগজের কথা আমাকে জানান। এ বিষয়টি মোলাইমকে জিজ্ঞেস করি। পরে ২০১৫ সালের ২৩ মার্চ একই তারিখের দুটি স্ট্যাম্প কাগজে সে প্রতারণার মাধ্যমে আমার দস্তখত নিয়ে কাগজে ‘তালাকনামা’ এবং ‘কোর্ট ম্যারেজ’ হলফনামা দেখিয়ে আমাকে তার স্ত্রী দাবি করে। তখন সে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে আমাকে বিভিন্ন সময় হয়রানি করে ও মারধর করে।

পরবর্তীতে ২০ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কোর্ট ম্যারেজ এবং তালাকনামা বাতিলের জন্য এফিডেবিটের মাধ্যমে আদালতে আবেদন করি। এরপরও প্রায় সে আমাকে উত্যোক্ত করতে থাকে।

তিনি আরো বলেন, সোমবার দুপুরের দিকে ফুলতালা বাজারে যাই এবং সেখান থেকে বিকাশে ক্যাশ আউট করে বাড়িতে ফিরে আসি। মোলাইম আমার পিছু নিয়ে আমার বাড়িতে আসে এবং ঘরে ঢুকে আমার গলায় শ্বাসরোধ করে রাখে।

পরে আমার শাড়ি জোরপূর্বক খুলে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে এবং টেনেহিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে এসে আমাকে কাঠের লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারধর করতে থাকে। এ সময় আমার মেয়েরা এগিয়ে এলে তাদের উপর চড়াও হয় মোলাইম। সমস্ত শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ ব্যাপারে মোলাইম খান বলেন, আমার দুই স্ত্রী আছে এবং ওই নারীও আমার স্ত্রী। তাকে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে করেছি। আগের স্বামীর সঙ্গে তার তালাক হয়ে গেছে। ঘটনার দিন তার বাড়িতে গেলে প্রথমে সে আমার ওপরে হামলা চালায়। একপর্যায়ে আমি আত্মরক্ষার্থে তাকে মারধর করি। আপসের জন্য তার সঙ্গে বিয়ের সব কাগজপত্র স্থানীয় ফুলেরতল মসজিদ কমিটির কাছে দেয়া আছে।

মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি আনারউদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ কিছু জানায়নি। পরস্পরের মাধ্যমে মারধরের ঘটনাটি জানতে পেরেছি।

কুলাউড়া থানার এএসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, নারীর ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন কোনোভাবেই কাম্য নয়। মোলাইম খান ওই নারীকে পাশবিকভাবে লাঠিপেটা ও নির্যাতন করেছেন। ধর্ষণচেষ্টা ও মারধরের ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

-এডি/ এএ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *