ছাত্রীদের চিঠিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

শিক্ষা

নাটোরের নবাব সিরাজ সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ছাত্রীরা শিক্ষকের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে হচ্ছে বলে নাটোর প্রেসক্লাবে চিঠি দিয়েছেন ওই বিভাগের ছাত্রীরা। শিক্ষার্থীদের নামবিহীন এই চিঠিতে ছাত্রীরা উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে এই শিক্ষকও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

নাটোর প্রেসক্লাবে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে আসা ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ও শনিবার কথা হয় কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হয় সময় সংবাদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষার্থীরা জানায়, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক কাজী ইসমাইল হোসেন প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন। পাশাপাশি ব্যবহারিক ক্লাসের সময় ছাত্রীরা তার কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি পাবনায় উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বনভোজনে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন এক শিক্ষক। বিষয়টি শিক্ষার্থী সহ শিক্ষকরা জানলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি কর্তৃপক্ষ।

যৌন হয়রানি শিকার উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী বলেন, ব্যবহারিক ক্লাসের সময় শিক্ষক কাজী ইসমাইল হোসেন শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন। বিষয়টি শিক্ষকরা জানলেও তিনি বিভাগীয় প্রধান হওয়ায় কোনো শিক্ষক প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। আর শিক্ষকদের হাতে ব্যবহারিক নম্বরের থাকার কারণে ছাত্রীরা মুখ খোলেন না বলে জানান তিনি। ওই ছাত্রীর অভিযোগ অধ্যক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে শিক্ষক কাজী ইসমাইল হোসেন বেপরোয়া হয়েছেন।

এব্যাপারে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী তার উল্লেখ করেছে। তবে তিনি এইসব বিষয় কিছু জানেন না বলে জানান। তবে পাবনার বনভোজনে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাবনার বনভোজনে তিনি জাননি তাই তিনি অবগত নন।

বিষয়টি নিয়ে শনিবার কলেজের কয়েকজন কর্মচারীরা জানান, অধ্যক্ষ বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। এই বিষয়ে কি করণীয় তা জানতে শনিবার সকাল থেকে কয়েক দফায় আলাদা আলাদা করে কয়েকজন শিক্ষকের সাথে বৈঠক করেছেন অধ্যক্ষ।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর সামসুজ্জামান এ বিষয়ে কোনো কিছু জানেন না বলে কলেজের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন এ প্রতিবেদককে ।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন জানান, তারা এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি। সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি শুনছেন। তবে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাবনায় বনভোজনের গিয়েছিল কিনা তা তিনি জানেন না। আর এই বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি। তবে কবে নাগাদ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে তা তিনি জানাননি। তবে অধ্যক্ষ শিক্ষকদের নিয়ে বৈঠকের বিষয়টি অবগত নন বলে জানান ফরহাদ হোসেন।

এব্যাপারে নাটোরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টির খোঁজ নিচ্ছেন। তবে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিস্ট কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *