২১, নভেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

নুসরাত হত্যা মামলার বিচার হতে পারে হাইকোর্টে

আপডেট: April 12, 2019

নুসরাত হত্যা মামলার বিচার হতে পারে হাইকোর্টে

সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে নুসরাত হত্যার মামলা ইচ্ছে করলে হাইকোর্ট বিভাগ জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিজেই নিষ্পত্তি করতে পারেন। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সময় সংবাদকে এমনটা জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজীম আল ইসলাম।

এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারা (মামলা স্থানান্তর অথবা নিজে মামলা নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা) অনুসারেও হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি নিজে নিষ্পত্তি করতে পারেন। এদিকে প্রধান বিচারপতি হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনে আলাদা বেঞ্চও গঠন করে দিতে পারেন।

আইনজীবী তানজীম আল ইসলাম বলেন, যেহেতু মামলাটি স্পর্শকাতর এবং জনগুরুত্বপূর্ণ তাই প্রধান বিচারপতি এ উদ্যোগ নিতে পারেন। এর ফলে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

সংবিধানের ১১০নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত বিভাগের কোন অধস্তন আদালতের বিচারাধীন কোন মামলায় এই সংবিধানের ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত আইনের এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বা এমন জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয় জড়িত রহিয়াছে, সংশ্লিষ্ট মামলার মীমাংসার জন্য যাহার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন, তাহা হইলে হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত আদালত হইতে মামলাটি প্রত্যাহার করিয়া লইবেন এবং (ক) স্বয়ং মামলাটির মীমাংসা করিবেন; অথবা (খ) উক্ত আইনের প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করিবেন এবং উক্ত প্রশ্ন সম্বন্ধে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের নকলসহ যে আদালত হইতে মামলাটি প্রত্যাহার করা হইয়াছিল, সেই আদালতে (বা অন্য কোন অধস্তন আদালতে) মামলাটি ফেরত পাঠাইবেন এবং তাহা প্রাপ্ত হইবার পর সেই আদালত উক্ত রায়ের সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া মামলাটির মীমাংসা করিতে প্রবৃত্ত হইবেন।

নুসরাত হত্যা মামলার বিচারের বিষয়ে বলতে গিয়ে আইনজীবী শিশির মনীর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের ক্ষতিপূরণের মামলার বিষয়টিকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন। তিনি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তারেক মাসুদের ক্ষতিপূরণের মামলার বিচার হয়েছে উচ্চ আদালতে।

এদিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২৬ ধারা মতে ফৌজদারি মামলা স্থানান্তরের জন্য হাইকোর্টে দরখাস্ত করা হয়। এই বিধান মতে হাইকোর্ট বিভাগ মামলা স্থানান্তর করার আদেশ বা স্বয়ং বিচার করতে পারবেন। আর তাই উচ্চ আদালতে চাইলে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা নিজেই নিষ্পত্তি করতে পারেন।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় বোরখা পরা কয়েকজন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দিন রাতে রাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল বুধবার রাতে মারা যায় রাফি।

এর আগে গত ২৭ মার্চ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। এ মামলা তুলে নিতে চাপ দিতে থাকে দুর্বৃত্তরা। মামলা তুলতে রাজি না হওয়ায় তার গাঁয়ে আগুন দেয়া হয়েছে বলে দাবি তার পরিবারের।