৯, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে বিএনপিতে দ্বন্দ্ব

আপডেট: April 12, 2019

বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে বিএনপিতে দ্বন্দ্ব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও দলের ভেতরের দ্বন্দ্বগুলো ধীরে-ধীরে প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে। দলটির অনেক সিনিয়র নেতা দলের দুর্বলতার বিষয়ে আলোচনা সভা, সেমিনার, মানববন্ধন, অনশন-সমাবেশসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিচ্ছেন।

তবে সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং দ্বন্দ্বের বাইরেও বিএনপির সামনে ৪টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো হলো, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, দল পুনর্গঠন, পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ধরে রাখা।

বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলোচনা করে এসব বিষয় জানা গেছে। তবে এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপির সামনে একটাই চ্যালেঞ্জ। সেটি হলো, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারলেই এর আশে-পাশে যে সব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যাবে।

এবিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন এবং বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, এর বাইরে আমাদের আর কোনো দাবি নেই।

অপরদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিষয়ে ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ঐক্য ধরে রাখতে আমাদের আরো সুসংগঠিত হতে হবে। তবে আমরা আশাবাদী ঐক্যের পক্ষে সবাই। সবাই বলছে ঐক্যকে আরো সুসংগঠিত করার বিকল্প নেই।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির আন্দোলন নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব এবং নির্বাহী কমিটির সদস্যদের দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। মূলত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে অনশন, গণঅনশন, মানববন্ধন, কালো পতাকা মিছিলসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছেন।

কিন্তু এসব কর্মসূচিতে বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয় বলে মনে করছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব এবং নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে হরতাল, অবরোধ এবং স্বেচ্ছায় কারাবরণের মত কর্মসূচি চান। তারা এজন্য সরাসরি বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরকে দোষারোপ করছেন। তারা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনি প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়। এজন্য রাজপথে কঠোর আন্দোলনের কথা বলছেন দলটির নেতাকর্মী। এছাড়া শুধু গণঅনশন ও মানববন্ধনের ভেতরে সীমাবদ্ধ না থেকে স্বেচ্ছায় কারাবরণ কর্মসূচি চান তারা।

এবিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা আন্দোলন চাই। মানববন্ধন ও অনশন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি আসবে না। রাজপথে শক্তি প্রদর্শন করতে হবে। সুতরাং কৌশল করুন। রাজপথে একসাথে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ লোক নামলে সরকার পালানোর পথ খুঁজে পাবে না।

তবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, যারা কর্মসূচি শুরু হওয়ার ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর এসে মঞ্চে বড় বড় বক্তব্য দেন এবং যারা কর্মসূচি দিতে বলেন, তাদেরকেই কিন্তু বিএনপির বিগত আন্দোলনগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই আগে নিজে ঠিক হোন, এরপর অন্যদের সমালোচনা করুন। আর কয়েকজন ধান্ধাবাজ ও ফাঁকিবাজ বাদ দিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ।

দলের পদে থাকা নেতাদের নিয়ে বিএনপিতে অভিযোগ,দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে যারা কর্মসূচিতে আসেন না, তাদের নিয়ে বিএনপির মধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এমনকি যারা পদে থেকে কাজ করেন না, তাদের দায়িত্ব ছেড়ে দিতেও বলা হয়েছে দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে।

এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, যারা মামলা–মোকদ্দমায় ভয় পান, তারা দয়া করে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। আর যারা ভয় পাবেন না, তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

একই বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, বিএনপির ৪৫ জন ভাইস চেয়ারম্যান এবং সম্পাদক মণ্ডলীসহ ৬৮৬ জন, এরা সবাই কোথায়? এখানেই গোজামিল চলছে। এই গোজামিল দিয়ে চলবে না। সবাইকে ডাকুন মহাসচিব (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর)। আমরা বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য স্বেচ্ছায় কারাবরণ করতে রাজি। সুতরাং বেগম জিয়ার মুক্তি জন্য কর্মসূচি দিন।

জানতে চাইলে বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আমরা যারা ব্যর্থ হয়েছি, আমি নিজেও…। তবে আমার নিজের সরে (দলীয় পদ থেকে) যেতে কোনো আপত্তি নেই। আর যারা যোগ্য ব্যক্তি আছেন, তারা দলের নেতৃত্বে আসবেন। আসা উচিত।