৯, ডিসেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

মসজিদের মধ্যে ইমামের সঙ্গে দুই তরুণীর মারামারি

আপডেট: April 12, 2019

মসজিদের মধ্যে ইমামের সঙ্গে দুই তরুণীর মারামারি

চাঁদপুরে কলেজ ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের জের ধরে সৃষ্ট মারামারির পর এলাকা ছেড়েছেন মসজিদের এক ইমাম। গত দুই দিন আগে জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন ইমাম সৈয়দ আহম্মদ। তবে এই ঘটনায় আহত এক নারী হাসপাতালে ভর্তি হলেও তার কোনো হদিস মিলছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার (১০ এপ্রিল) ভোরে বোরকা পরিহিত দুই তরুণী ফরিদগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাজার মসজিদের সামনে যান। ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার পর তারা মসজিদের ভেতর ঢুকে ইমাম সাহেবকে ডাকেন। এ সময় ইমাম সৈয়দ আহম্মদ (২৬)-এর সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে নারীদের একজন ইমামের চোখে মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে মারেন। এসময় ইমাম ও তার সহযোগী রিপন বেপারী ওই দুই নারীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে রিভা সুলতানা রিক্তা (২২) নামে একজনের মাথা ফেটে যায়। ঘটনার সময় মসজিদে থাকা প্রায় ৮-১০ জন মুসুল্লি দুই তরুণীকে মসজিদে আটকে রেখে তালা মেরে দেন। এর কিছুক্ষণ পর এলাকার কয়েকজন উপস্থিত হয়ে ওই দুই তরুণীকে মসজিদ থেকে ছাড়িয়ে এনে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেন।

এদিকে, এমন ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী ওই নারীদের বাড়ির সামনে ভিড় জমান। এসময় তারা বাড়িটি ঘিরে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইস্কান্দার আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহত রিভা সুলতানা রিক্তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। ঘটনা সম্পর্কে চেয়ারম্যান বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সাহেবগঞ্জ বাজার মসজিদ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন জানান, তাঁর মসজিদের ইমাম সৈয়দ আহম্মদের নৈতিক চরিত্র নিয়ে কথা ওঠে। তখন তার সঙ্গে আমি কথা বলে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেই। কিন্তু তার দুই দিন পরই ইমাম এলাকায় ফিরে আসেন। যে কারণে গত দুই মাস ধরে মসজিদের ইমাম সৈয়দ আহম্মদের পেছনে নামাজ পড়া বন্ধ করে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে সাহেবগঞ্জ গ্রামের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী মেম্বার রেনুয়ারা বেগম বলেন, আমার পুত্রবধূ রিভা সুলতানা রিক্তাকে কেন মারধর করা হলো এ জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে বিচার দাবি করেছি।

অন্যদিকে, ঘটনা সম্পর্কে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রকিব জানান, বিষয়টি বিভিন্নজনের কাছ থেকে শুনেছেন। তবে এই নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ দেননি। তারপরও যেহেতু মসজিদে ইমামের সঙ্গে নারীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তা খতিয়ে দেখতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোপী নাথের নেতৃতে শুক্রবার বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও প্রাথমিক খোঁজখবর নেন।

ওসি আরো বলেন, রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার শিকার নারীদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

মসজিদের ইমামের সঙ্গে ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন কলেজ পড়ুয়া উচ্চ মাধ্যমিক প্রথমবর্ষের ওই ছাত্রী। তিনি দাবি করেন, কলেজে যাওয়া আসার পথে ইমাম সৈয়দ আহম্মদ তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। তার পিছুও নিতেন। এমনকি মাঝেমধ্যে অশালীন ইঙ্গিত করতেন ওই ইমাম। কয়েক মাস আগে এসব কথা তার কলেজের একজন শিক্ষক ও মসজিদ কমিটির সভাপতিকে জানিয়েছিলেন। এতে ইমামের আচরণ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে আমি এবং আমার বড়বোন ওই ইমামকে শায়েস্তা করতে মসজিদে যেতে বাধ্য হয়েছি।

শুক্রবার রাতে এই প্রতিবেদন লেখার সময় অভিযুক্ত ইমাম সৈয়দ আহম্মদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ঘটনার দিন বুধবার সকালেই তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইমাম সৈয়দ আহম্মদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার গন্ডামারা এলাকায়। অন্যদিকে, ইমামের সঙ্গে আলোচিত এই ঘটনায় জড়িত দুই তরুণীর একজন কলেজ ছাত্রী বাড়িতে অবস্থান করলেও আহত তার বড়বোন বিভা সুলতানা রিক্তা চাঁদপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদন লেখার আগে সেখানে তার খোঁজ করা হলেও পাওয়া যায়নি।