১৯শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, রবিবার

এবার হার্ডলাইনে সরকার

আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

| Palash Mondol

খালেদা জিয়ার জামিন এবং মুক্তি নিয়ে বিএনপি আন্দোলন করতে পারে এরকম ধারণা থেকে সরকার বিএনপির বিরুদ্ধে আরেক দফা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সূত্র জানাচ্ছে, সরকার এখন বিএনপির ব্যাপারে সুস্পষ্ট কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-

১. খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনায় যাবে না আওয়ামী লীগ

৩০ ডিসেম্বরের পর থেকে আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়ার জামিন এবং উন্নত চিকিৎসার ব্যাপারে নমনীয় অবস্থানে ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে এরকম প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, খালেদা জিয়া যদি প্যারোলের আবেদন করে তাহলে সেটা সরকার বিবেচনা করবে। এই চিন্তা থেকে বিএনপির কেউ কেউ সরকারের সঙ্গে সমঝোতাও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথে না গিয়ে বিএনপি আইনি লড়াইয়ের পথে গিয়েছে। এখন আপিল বিভাগ খালেদার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। ফলে আপাতত খালেদা জিয়ার মুক্তির আর কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকার এখন মনে করছে যে, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় নিয়ে তারা বিএনপির সঙ্গে আর কোনো আলোচনা-সমালোচনায় যাবে না।

আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছেন, উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ যখন খালেদার মুক্তি নাকচ করে দিয়েছেন, তাই এ নিয়ে আলোচনা অর্থহীন। তিনি এটাও বলেন যে, খালেদার মুক্তির বিষয়টি এখন পুরোপুরিই আদালতের বিষয়। আদালতে গিয়েই তাদের এটা মীমাংসা করতে হবে।

২. বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ বিএনপির প্রতি অনেক নমনীয় ছিল। বিশেষ করে ২০১৩-১৪ তে বিএনপির বিরুদ্ধে যে জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল- সেই মামলাগুলো পরিচালনায় ধীরগতির নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপির অনেক নেতাই জামিন না নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছিলেন। যেমন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও তিনি জামিন না নিয়েই বিএনপির দপ্তরে অবস্থান করছিলেন। এরকম অনেক নেতাই বিভিন্ন মামলা নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।

এখন খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে বিএনপি আদালতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে এবং পরবর্তীতে একদফা আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে- সেই প্রেক্ষিতে সরকার এখন এ মামলাগুলোকে আবার সচল করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

৩. নাশকতা করলেই ব্যবস্থা

বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানির আগের দিন গত বুধবার সুপ্রিমকোর্টের সামনে মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল বিএনপির লোকজন আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এর পেক্ষিতে সরকার মামলা করেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুহুল কবির রিজভীসহ ১৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কিন্তু সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, জনমনে অশান্তি তৈরি করা, নাশকতা সৃষ্টি বা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যারা এ ধরনের কাজ করবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, সরকারের কৌশল হলো বিএনপিকে চাপের মধ্যে রাখা। যাতে তারা কোনোভাবেই নতুন করে আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারে। বিশেষ করে আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। কাউন্সিলের পর তারা মুজিববর্ষের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। এই সময়টাতে রাজনীতিতে একটা নিরুত্তাপ আবহ চায় আওয়ামী লীগ। আর এ কারণেই বিএনপি যেন কোনোভাবেই দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে না পারে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে সেজন্য সরকার হার্ড লাইনে যাবে।