২১শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার

ওটি থেকে তাড়িয়ে দেয়া প্রসূতির সিঁড়িতে সন্তান প্রসব

আপডেট: ডিসেম্বর ৯, ২০১৯

| Habib Adnan

গেল সপ্তাহে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে জনসম্মুখে সন্তান প্রসব করেছেন এক প্রসূতি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই একই হাসপাতালের সিঁড়ির মেঝেতে সন্তান প্রসব করেন মরিয়ম বেগম নামে আরো এক প্রসূতি।

রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। মরিয়ম শাহজাদপুর উপজেলার বেলতৈল ইউপির খাস সাতবাড়িয়া গ্রামের শাহিন আলমের স্ত্রী।

মরিয়মের স্বজন উম্মে আয়েশা বলেন, রোববার সকালে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে মরিয়মকে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে কোনো সিট না থাকায় তাকে মেঝেতে রাখা হয়। এরপর সারাদিন কোনো চিকিৎসক তাকে দেখতে আসেননি। সন্ধ্যায় ডা. আফরোজা খাতুন এসে তাকে দেখে সিজারের কথা বলেন। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষার পর অতিরিক্ত রক্তের ব্যবস্থা করা হয়। রাত ৯টায় মরিয়মকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। কিছুক্ষণ পরেই ডাক্তার এসে বলেন, রোগীর অবস্থা ভালো নয়। সিজার করানো সম্ভব না। তাৎক্ষণিক রোগীকে রেফার করেন চিকিৎসকরা।

প্রসূতি মরিয়ম বলেন, আমার যখন প্রচণ্ড প্রসব ব্যথা ওঠে ঠিক তখনই অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে দেন চিকিৎসকরা। তারা কোনো চেষ্টাই করেননি। প্রসব যন্ত্রণা নিয়েই সিঁড়ি দিয়ে হেঁটে নিচতলায় আসি। এরপর মেঝেতে শুয়ে পড়ি। সেখানেই একটি কন্যা সন্তান হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, রোববার গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. মাহবুবা বেগম, রেজিস্ট্রার ডা. তুহিন ও সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. আফরোজা খাতুন ওই রোগীকে দেখেছেন। ওই প্রসূতিকে কেন রেফার করা হয়েছে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাবে।

সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনো কেউ জানায়নি। তবে ১ ডিসেম্বর হাসপাতাল ফটকে প্রসূতির সন্তান প্রসবের বিষয়টি জেনেছি। সে ব্যাপারে দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

১ ডিসেম্বর সদর উপজেলার রুপসাচর এলাকার আব্দুর রহিমের স্ত্রী রহিমা খাতুন নামে এক প্রসূতিকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রেফার করা হয় এ হাসপাতাল থেকে। ওই প্রসূতি অটোরিকশায় ওঠার সময় হাসপাতালের প্রধান ফটকে জনসম্মুখেই সন্তান প্রসব করেন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।