১৯শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, রবিবার

রুম্পার বন্ধু আটক

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৯

| Palash Mondol

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুরহস্য উদঘাটনে সৈকত নামের তার এক বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত বুধবার রাত ১১টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর ভবনের সামনে থেকে রুম্পার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে মরদেহ অজ্ঞাত থাকায় পুলিশ বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা করে। ৬৪/৪ নম্বর ভবনের নিচতলা ও তৃতীয় তলায় ছেলেদের মেস এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় পরিবার নিয়ে থাকেন ভাড়াটেরা। রুম্পা ওই ভবনে গিয়েছিলেন কি-না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে সেটিও। এ ছাড়া পাশের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের ১১ তলা ভবনের ছাদে স্যান্ডেলের ছাপ পাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, মৃত্যুর বিষয়টির তিনটি আঙ্গিকে তদন্ত চলছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। রুম্পার মোবাইল ফোনে সর্বশেষ যেসব নম্বর থেকে কথা হয়েছে, যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে সেগুলো। সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু আলামত পাওয়া গেছে, সেগুলো মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

রুম্পার বাবা রোকন উদ্দিন হবিগঞ্জে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের বিজয়নগরে। তবে মা ও একমাত্র ভাইয়ের সঙ্গে রুম্পা থাকতেন রাজধানীর শাজাহানপুরের শান্তিবাগে। সিদ্ধেশ্বরীর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন তিনি। বুধবার শান্তিবাগে এক ছাত্রকে প্রাইভেট পড়িয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাসার সামনে যান। সেখানে দাঁড়িয়ে তার মাকে ফোন করে চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সুমনকে দিয়ে তার এক জোড়া স্যান্ডেল নিচে পাঠাতে বলেন। সুমন স্যান্ডেল নিয়ে এলে তিনি মোবাইল ফোন, আংটি, হাতঘড়ি ও ভ্যানিটি ব্যাগ সুমনের মাধ্যমে বাসায় পাঠিয়ে দেন। এর চার ঘণ্টা পর সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাড়ির সামনের রাস্তায় মরদেহ পাওয়া যায় তার।

রুম্পার মা নাহিদা আক্তার পারুল সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়েকে আমি খুব ভালো করে চিনি। ও আত্মহত্যাকে ঘৃণা করত। রুম্পা আত্মহত্যা করতেই পারে না। আত্মহত্যা করার মতো কোনো কারণও ছিল না।