২১শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং, মঙ্গলবার

স্টামফোর্ডের রুম্পা হত্যায় কতটুকু এগোল পুলিশ

আপডেট: ডিসেম্বর ৮, ২০১৯

| Palash Mondol

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে- এটি সামনে রেখেই তদন্তকাজ এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এরই মধ্যে জানতে পেরেছে রুম্পা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন। আট মাসের সম্পর্কের মধ্যে গত তিন মাস ধরে তাদের মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। এর জেরেই কী রুম্পাকে জীবন দিতে হয়েছে? উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শেখ মোহাম্মদ শামীম আজ শনিবার বিকেলে বলেন, ‘প্রেমের সম্পর্কের জেরে শারমিন রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে এটা নিশ্চিত। সৈকত নামের একজনের সঙ্গে রুম্পার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমরা সৈকত-সংশ্লিষ্ট অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, প্রেমের কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

সৈকত স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিবিএ বিভাগের ৫৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁর পুরো নাম রাইমান সৈকত। তিনি তাঁর পরিবারের সঙ্গে শান্তিনগরে ভাড়া বাসায় থাকেন। তবে ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক আছেন বলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে।

জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, ‘ছাদ থেকে ফেলে দেওয়ার আগে রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে। ভবনটির ছাদের পরিবেশ অনেক নোংরা। ছাদের উপর রুম্পার সঙ্গে কারো ধস্তাধস্তি বা হাতাহাতি হয়নি। ছাদে এমন কিছু ঘটলে ছাপ থাকত। তাঁকে একটি কক্ষে হত্যা করে সম্ভবত দুজন মিলে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে।’

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পেছনের দুটি ভবনের মাঝখান থেকে গত বুধবার রাতে শারমিন রুম্পার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রুম্পার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বিজয়নগর গ্রামে। তাঁর পরিবার মালিবাগের শান্তিবাগের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে।

পরে পরিবার গিয়ে রুম্পার লাশ শনাক্ত করে। ওই ভবন দুটির একটিতে নারী হোস্টেল অপরটিতে পুরুষ হোস্টেল। এর বাইরে পরিবারও আছে। পুলিশের ধারণা, পুরুষ হোস্টেলের একটি কক্ষে হয়তো রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রমনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল খায়ের বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রুম্পার বাবা রোকন উদ্দিন পুলিশের পরিদর্শক হিসেবে হবিগঞ্জের একটি ফাঁড়িতে কাজ করেন। তিনি ওই দিনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, রুম্পা প্রাইভেট পড়িয়ে বাসার নীচে এসে চাচাত ভাইকে দিয়ে ফোন ও ব্যাগ বাসায় পাঠিয়ে দেয়। রুম্পা বাসায় না গিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়। তখন রুম্পার মোবাইলে তার এক বান্ধবী ফোন করে। ফোনটি রিসিভ করেন তার মা। সেই বান্ধবী রুম্পা কোথায় আছে, সেই খবর জানতে চায়। রুম্পার সেই বান্ধবী আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সের পাশের একটি ভবনে থাকেন বলে জানান রোকন উদ্দিন। তিনি দাবি করেন, রুম্পার ওই বান্ধবীই হয়তো তাঁকে ডেকে নিয়েছিল।

রুম্পার বাবা আরো বলেন, ‘আগামীকাল রোববার স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমার মেয়ে ভার্সিটিতে সাড়ে ১৩ হাজার জমা দিয়েছিল। পরীক্ষার প্রবেশপত্রও নিয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার আগেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও রুম্পার কাছের বন্ধু আবদুল্লাহ শাকিল এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, প্রায় এক বছর ধরে বিবিএ ডিপার্টমেন্টের রাইমান সৈকত নামের এক ছেলের সঙ্গে রুম্পার সম্পর্ক ছিল। কিন্তু গত তিন মাস ধরে তাঁদের সম্পর্কটা ভালো যাচ্ছিল না। রুম্পা সব সময় মন খারাপ করে থাকত। বলত, সৈকতের সঙ্গে তাঁর ঝামেলা চলছে। আমরা ধারণা করছি, এ ঘটনার সঙ্গে ওই সম্পর্কের বিষয় জড়িত থাকতে পারে, আবার নাও পারে।’

রুম্পার লাশের ময়নাতদন্তের ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘রুম্পাকে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে এটা নিশ্চিত। প্রথম যখন আমি লাশ দেখি তখন তাঁর দুই পা ও হাত ভাঙা দেখেছি। মাথায় আঘাত পেয়েছে। চোখে-মুখে রক্ত ছিল। তবে হত্যার আগে ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি। আলামত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে আসল ঘটনা জানা যাবে।’